খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া সেই ম্যাচটি এখনো ক্রিকেটবিশ্বে আলোচিত। ঐতিহ্যবাহী দল পাকিস্তানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫৯ রান। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও নির্ধারিত ২০ ওভারে সমান রান সংগ্রহ করে ম্যাচকে নিয়ে যায় সুপার ওভারে। সেখানে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৮ রান তুললেও যুক্তরাষ্ট্র দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৩ রানের লক্ষ্য টপকে যায় অনায়াসেই। সেই জয়ের স্মৃতি নিয়েই এবার আবার পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ কলম্বোতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ২৯ রানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে পাকিস্তান। শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও শুরুটা মনমতো হয়নি তাদের। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছে পাকিস্তান শিবির। তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে আবারও ফিরে এসেছে গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্মরণীয় জয়।
যুক্তরাষ্ট্র দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ মোহসিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, তাঁর দল আবারও পাকিস্তানকে চমকে দিতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের পেশোয়ারে জন্ম নেওয়া মোহসিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তারা হারলেও সেখানে অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। বিশেষ করে প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত যেভাবে দল লড়াই করেছে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের জয়ের অভিজ্ঞতাও বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
মোহসিন মনে করেন, এই ম্যাচে মানসিক চাপটা বরং পাকিস্তানের ওপরই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র আন্ডারডগ হলেও তাদের হারানোর কিছু নেই। ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই মাঠে নামবে দলটি। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য এক ধরনের রোমাঞ্চকর যাত্রা, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই শেখার সুযোগ।
পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মোহসিন জানান, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র দল আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি সতীর্থদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তান শিবির সেই অতীতকে পাত্তা দিতে নারাজ। ফাস্ট বোলার সালমান মির্যা স্পষ্ট করে বলেছেন, ডালাসের সেই হার এখন অতীত। কলম্বোর মাঠে নামার সময় খেলোয়াড়দের মাথায় সেটি থাকবে না। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ছোট দলগুলোও যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, চলমান বিশ্বকাপেই তার প্রমাণ মিলছে।
নিচের ছকে দুই দলের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পাকিস্তান | যুক্তরাষ্ট্র |
|---|---|---|
| বিশ্বকাপ শুরু | ভারতের কাছে হার | ঐতিহাসিক জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস |
| শক্তির দিক | অভিজ্ঞ খেলোয়াড় | দলগত সংহতি ও সাহস |
| মানসিক অবস্থা | ঘুরে দাঁড়ানোর চাপ | হারানোর কিছু নেই |
| অতীত মুখোমুখি | সুপার ওভারে হার | স্মরণীয় জয় |
সব মিলিয়ে কলম্বোর ম্যাচটি শুধু দুই দলের পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং অতীতের স্মৃতি আর বর্তমান আত্মবিশ্বাসের এক নতুন দ্বন্দ্ব হিসেবেই দেখছে ক্রিকেটবিশ্ব।