খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
ঢাকা সিটি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ আনেন কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক কাজী নেয়ামুল হক।
তিনি জানান, গত ১৩ জুন ঢাকা সিটি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরদিন ১৪ জুন কলেজের গভর্নিং বডির সভায় তাঁকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে কাজী নেয়ামুল হক বলেন, গত ৪ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি অফিসে ভিসির পিএস আমিনুল আক্তার তাঁকে সাক্ষাতের জন্য ডেকে পাঠান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিন সহকর্মী—ফকির মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বাদশাহ আলমগীর ও জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁদের সামনেই আমিনুল আক্তার ভিসির পক্ষে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে জানান তিনি। তবে এই ঘুষ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন বলে দাবি করেন কাজী নেয়ামুল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “২০০৫ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন অধ্যক্ষ বেদার উদ্দিন আহমেদ ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন। তবে তাঁর পদত্যাগের আগে তিনি ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মীকে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করে স্থায়ী বহিষ্কার করেন, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।”
বহিষ্কৃত ওই শিক্ষকরা হলেন—ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর উপ-সম্পাদক দেলোয়ার রহমান দীপু, মহিলা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদিকা চৈতালী হালদার, ঢাবির মৈত্রী হল ছাত্রলীগ নেত্রী ফরিদা পারভীন, জসীমউদ্দিন হল সভাপতি আল ফয়সাল, ঢাকা মহানগর ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাজা, এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আত্মীয় কায়কোবাদ সরকার।
কাজী নেয়ামুল হকের দাবি, এসব বহিষ্কৃত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পুনর্বহালের জন্য বর্তমান উপাচার্য বারবার চাপ প্রয়োগ করেছেন। গভর্নিং বডি ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাতে সম্মতি না দেওয়ায় ভিসি বিরূপ হয়ে ওঠেন এবং গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে নিজের অনুগতদের নিয়োগ দেন।
এ বিষয়ে ভিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/এমএজেড