খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)। তিনি ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট ৯৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৩৭ সালে, অবিভক্ত ভারতে নিষিদ্ধঘোষিত বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশন-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে ১৯৫৪ সালে তিনি পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেন। সেই বছর যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা মফিজউদ্দিনকে পরাজিত করে তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদে তিনি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই বছরের ২৭ জুলাই মওলানা ভাসানী, খান আবদুল গফফার খানসহ দেশ-বিদেশের প্রগতিশীল নেতাদের সমন্বয়ে ন্যাপ গঠিত হলে তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালে আইউব খানের সামরিক শাসন জারির পর তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তখন তিনি দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। ১৯৬৬ সালে তিনি পুনরায় প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব দেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে জাতিসংঘেও যান।
দেশের প্রতি অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ২০১৫ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পদক প্রদানের ঘোষণা দেয়। তবে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খবরওয়ালা /এমএজেড