খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সব উপাদানকে একত্রিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবনা নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়া ও বেটিংয়ের কার্যক্রম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিদেশে অর্থপাচারসহ তরুণ সমাজ হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধে করণীয় নির্ধারণে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, মোবাইল অপারেটর এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের অংশগ্রহণে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি ও জুয়া রোধে একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম নম্বর এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট সমন্বিতভাবে যাচাই করা হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে জুয়া সংক্রান্ত কনটেন্ট বন্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, যুব সমাজের অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং অর্থপাচার রোধে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেটিং সাইটে প্রবেশকারীদের শনাক্ত এবং এমএফএস অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করে ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
বিটিআরসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, জুয়া ও আর্থিক প্রতারণা শনাক্তে বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে সাবস্ক্রাইবার ডাটা ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম (এসডিভিপি) সিস্টেম তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল সিম সংখ্যা হ্রাস এবং এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হলে জুয়ার প্রবণতা কমে আসবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা জানান, কমিশন ও বিটিআরসি যৌথভাবে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ডুপ্লিকেশন রোধে স্মার্ট আইডি ও পুরোনো আইডি ম্যাপিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, জুয়া শনাক্তে ক্রলিং ইঞ্জিন তৈরির কাজ চলছে। নতুন নতুন জুয়া সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট নিয়মিতভাবে বন্ধ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্রগুলো কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
তারা বলেন, শীর্ষ জুয়া সাইটগুলো উন্নত এআই লিংকের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে, যেখানে আইপি ঠিকানা গোপন এবং ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি এড়ানো হয়। কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালুর মাধ্যমে সিম ও এনআইডি কালো তালিকাভুক্ত করে সবখানে প্রচার করলে অপরাধ অনেকাংশে কমবে।
ডিজিএফআই-এর প্রতিনিধি জানান, বিটিআরসিকে ফোকাল পয়েন্ট রেখে একটি কার্যকর কমিটি গঠন এবং জুয়া রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্স (এনএসআই) প্রতিনিধিরা জানান, দেশীয় চক্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চক্র অনলাইনে অপরাধে জড়িত। তারা বিদেশ থেকে কলসেন্টার চালিয়ে জুয়া ও বেটিংয়ের প্রচারণা চালায়। আইএসপি অপারেটরদের কনটেন্ট সনাক্তের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকল অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও এমএফএস অ্যাকাউন্টের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা গেলে জুয়া ও আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত ৮০ শতাংশ অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে।
মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা জানান, তারা তাদের কারিগরি সক্ষমতা অনুযায়ী ক্ষতিকর কনটেন্ট বন্ধ করছে এবং জুয়া ও পর্নোগ্রাফি রোধে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সভা শেষে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সব পক্ষের নীতিনির্ধারণী ও কারিগরি টিমকে সঙ্গে নিয়ে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে শিগগিরই আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন