খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা আট বছরেও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে চলে যাওয়ায় প্রত্যাবাসনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ফেরাতে আজ রবিবার কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে।
এই সম্মেলনের আগেই বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় হাজারো রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তে অবস্থান করছেন। এপারে ভেসে আসছে ওপারে গোলাগুলির শব্দ। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তের ওপারে কুমিরখালী, শীলখালী ও সাইডং এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু বলেন, ভয়ে সীমান্তের কাছাকাছি চিংড়ির প্রজেক্টে থাকা লোকজন পালিয়ে এসেছে।
রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলছে। এতে অনেক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. হোসাইন জানান, প্রাণে বাঁচতেই তারা এপারে আসার চেষ্টা করছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ৬২ জন রোহিঙ্গাকে প্রতিহত করা হয়েছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, তারা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং টহল বাড়িয়েছেন। তিনি জানান, একটি দালাল চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা পারাপারের চেষ্টা করছে এবং তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। বর্তমানে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে এক লাখ ২১ হাজার নিবন্ধিত হয়েছে।
উখিয়ার মধুরছড়ার ক্যাম্পে বসবাসরত হাফেজ আহমদ বলেন, তার গ্রাম এখন আরাকান আর্মির দখলে, সেখানে কোনো রোহিঙ্গা নেই। তার প্রশ্ন, তারা কোথায় ফিরে যাবে? তিন মাস আগে মিয়ানমারের মিঙ্গিঞ্জি এলাকা থেকে পালিয়ে আসা নুরুল হাকিম জানান, আরাকান আর্মি তাদের সন্তানদের যুদ্ধে নিয়োগ দিতে চায় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রত্যাবাসন দিন দিন জটিল হচ্ছে, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল বাড়াতে আজ কক্সবাজারে ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। এতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তারা রোহিঙ্গাদের কথা শুনবেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে উখিয়ার ইনানী এলাকায় হোটেল বে-ওয়াচে সম্মেলন শুরু হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল সোমবার সম্মেলনে যোগ দেবেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন