খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় গভীর বিস্ময়, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা স্পষ্টত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার মনে করে, তাঁর এই বক্তব্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে উসকানি দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার জন্য সরাসরি হুমকি।
বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে একজন দণ্ডিত অপরাধীকে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত রীতিনীতির পরিপন্থী। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে মূলনীতি রয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি একটি সরাসরি অবমাননা হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ভারত এখনো শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভারতের এই রহস্যজনক নীরবতা এবং তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যকে প্রশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশকে গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ করেছে। এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী এবং দুই দেশের ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উসকানিমূলক আচরণই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এই দলকেই দায়ী থাকতে হবে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লির এই ঘটনা কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো বিদেশি অপপ্রয়াস বা প্রশ্রয়কে ঢাকা বরদাশত করবে না—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কড়া বার্তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে।