খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের রাউন্ড অফ ১৬-এ এক অনন্য নাটকের মাধ্যমে মালি দেখালো ফুটবল মানে শুধু বলের খেলা নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও সাহসেরও খেলা। প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়ে ১০ জনের দলে খেলে মালি টিউনিশিয়াকে পেনাল্টিতে পরাজিত করে কোয়ার্টারফাইনালে অগ্রসর হলো—যা কেবল একটি জয় নয়, বরং দলগত এক অসাধারণ প্রত্যয় ও শৃঙ্খলের প্রমাণ।
ম্যাচটি শুরু হয়েছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ছন্দে, দুই দলই দ্রুত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত। তবে ২৬ মিনিটে খেলার গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। মালি রক্ষক ওহাউ কুলিবালি একটি ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জের পর সরাসরি লাল কার্ড পান, ফলে মালি প্রায় পুরো ম্যাচের জন্য এক জন কম খেলতে বাধ্য হয়। অনেক দলের জন্য এমন পরিস্থিতি ভাঙন ধরাতে পারে, কিন্তু কোচ টম সেন্টফিয়েতের নেতৃত্বে মালির দল হাল ছাড়েনি। প্রতিরক্ষা পুনর্গঠন করা হয় এবং মিডফিল্ড খেলোয়াড়রা লড়াই আরও তীব্র করে দলকে টিকিয়ে রাখে।
সংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও টিউনিশিয়া দল আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মাঠের দুই পাশ থেকে ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়। কিন্তু মালির প্রতিরক্ষা অটল থাকে। গোলরক্ষক জিগুই ডিয়ারা অসাধারণ Several saves করে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখেন। ম্যাচের শেষ দিকে শারীরিক ও মানসিক চাপ তীব্র হয়, তবুও খেলোয়াড়দের দৃঢ় সংকল্প অটুট থাকে।
৮৮ মিনিটে ফিরাস চাওয়াতের হেডে টিউনিশিয়া গোল করে মনে হয় জয় নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু নাটক শেষ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের আগে মালি একটি পেনাল্টি অর্জন করে এবং লাসিন সিনাইয়োকো ঠান্ডা মাথায় তা জালে পরিণত করেন, ফলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের জন্য গিয়ে পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হয়।
শুটআউটে মালির অধিনায়ক ইভেস বিসসুমা প্রথম পেনাল্টি মিস করেন, তবে ভাগ্য ফের মালির পক্ষে আসে। টিউনিশিয়ার আলি আবদি পেনাল্টি সফল করতে পারেননি এবং জিগুই ডিয়ারা দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শট বাঁচান। শেষ পর্যন্ত এল বিলাল তুরের নিখুঁত শট মালি জয় নিশ্চিত করে।
কোচ সেন্টফিয়েত ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের “নায়ক” আখ্যা দেন এবং বলেন, “ঐক্য, আত্মত্যাগ ও আত্মবিশ্বাস এই অবিস্মরণীয় জয়ের মূল চাবিকাঠি।” এখন মালি আত্মবিশ্বাসী হয়ে কোয়ার্টারফাইনালে প্রতিবেশী শক্তিশালী সেনেগালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
| বিভাগ | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিযোগিতা | আফ্রিকা কাপ অব নেশনস |
| রাউন্ড | রাউন্ড অফ ১৬ |
| ফলাফল | টিউনিশিয়া ১–১ মালি (পেনাল্টি ২–৩) |
| লাল কার্ড | ওহাউ কুলিবালি (২৬ মিনিট) |
| মালির গোল | লাসিন সিনাইয়োকো (পেনাল্টি) |
| বিজয়ী পেনাল্টি | এল বিলাল তুরে |
| সেরা পারফর্মার | জিগুই ডিয়ারা (গোলরক্ষক) |
| কোয়ার্টারফাইনাল প্রতিপক্ষ | সেনেগাল |
এই ম্যাচ আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, যা প্রমাণ করে যে মানসিক দৃঢ়তা ও দৃঢ় বিশ্বাস সংখ্যাগত অসুবিধাকে হারিয়ে দিতে পারে।