খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ক্রিকেট সিরিজের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। এই দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে স্বাগতিক পাকিস্তান দল সিরিজে এক-শূন্য ব্যবধানে এগিয়ে গেল। বোলার আরাফাত মিনহাসের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য এবং পরবর্তীতে ব্যাটার বাবর আজম ও গাজি ঘোরির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে পাকিস্তান দল এই অনায়াস জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শুরুতে টসে জয়লাভ করে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে তাদের সূচনা বেশ ইতিবাচক ছিল। প্রথম দশ ওভারের প্রাথমিক বাধ্যতামূলক ওভারের মধ্যে এক উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে একান্ন রান সংগ্রহ করে তারা। তবে এই ভালো শুরুর পর পাকিস্তান দলের বোলাররা দ্রুত খেলায় ফিরে আসে এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে ধস নামায়। ম্যাচের ষোলো ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আরও তিনটি উইকেট হারিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে, তখন তাদের দলীয় রান ছিল চার উইকেটে মাত্র আটষট্টি।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ব্যাটার ম্যাথিউ শর্ট। তিনি ছেষট্টিটি বল মোকাবেলা করে পঞ্চাশ রানের একটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ম্যাট রেনশ, যিনি বাহান্নটি বল খেলে বাহান্ন রান সংগ্রহ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি সচল রাখেন। এই দুই ব্যাটারের সময়োপযোগী জুটির ওপর ভর করে তেত্রিশতম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ দেড়শত রান পার হয়। তবে ইনিংসের শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলার আরাফাত মিনহাস অস্ট্রেলিয়ার মধ্যম ও নিম্ন সারির ব্যাটিং লাইনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন। তিনি তাঁর নির্ধারিত দশ ওভার বোলিং করে মাত্র বত্রিশ রান ব্যয়ে মূল্যবান পাঁচটি উইকেট লুফে নেন। তাঁর এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে চুয়াল্লিশ দশমিক এক ওভারে মাত্র দুইশত রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম innings বা ইনিংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও খেলোয়াড়দের অবদান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| প্রথম ইনিংসের বিবরণ | অর্জিত রান এবং ওভার | প্রধান অবদানকারী খেলোয়াড় | ব্যক্তিগত অবদান |
| শুরুর বাধ্যতামূলক ওভারের সংগ্রহ | এক উইকেটে একান্ন রান | ম্যাথিউ শর্ট | পঞ্চাশ রান (ছেষট্টি বল) |
| ষোলো ওভারের সংগ্রহ | চার উইকেটে আটষট্টি রান | ম্যাট রেনশ | বাহান্ন运行 (বাহান্ন বল) |
| মোট দলীয় সংগ্রহ | চুয়াল্লিশ দশমিক এক ওভারে দুইশত রান | আরাফাত মিনহাস | পাঁচ উইকেট (বত্রিশ রান, দশ ওভার) |
দুইশত এক রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দল তাদের প্রথম দশ ওভারের বাধ্যতামূলক ওভারে এক উইকেট হারিয়ে একচল্লিশ运行 সংগ্রহ করে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম এবং গাজি ঘোরির মধ্যকার একশত রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। দলের জয়ে অবদান রাখার পথে বাবর আজম চুরানব্বইটি বল খেলে ঊনসত্তর রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে অপর ব্যাটার গাজি ঘোরি বিরানব্বইটি বলের মুখোমুখি হয়ে পঁয়ষট্টি রান সংগ্রহ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার নাথান এলিস নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাঝের ওভারে পাকিস্তানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিলেও তা স্বাগতিকদের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। পাকিস্তানের ব্যাটাররা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্য বিন্দুর দিকে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বিয়াল্লিশ দশমিক তিন ওভার ব্যাটিং করে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দুইশত দুই রান তুলে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে সিরিজে শুভ সূচনা করল স্বাগতিক দেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও খেলোয়াড়দের অবদান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| দ্বিতীয় ইনিংসের বিবরণ | অর্জিত রান এবং ওভার | প্রধান অবদানকারী খেলোয়াড় | ব্যক্তিগত অবদান |
| শুরুর বাধ্যতামূলক ওভারের সংগ্রহ | এক উইকেটে একচল্লিশ রান | বাবর আজম | ঊনসত্তর রান (চুরানব্বই বল) |
| দ্বিতীয় উইকেটের জুটি | একশত রান | গাজি ঘোরি | পঁয়ষট্টি রান (বিরানব্বই বল) |
| মোট দলীয় সংগ্রহ | বিয়াল্লিশ দশমিক তিন ওভারে দুইশত দুই রান | নাথান এলিস | গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট লাভ |