খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্যারিসের শাতলে থিয়েটারের ঝলমলে মঞ্চে সোমবার রাতে আরও একবার ইতিহাস গড়লেন আইতানা বোনমাতি। টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন, যা তাকে ফুটবলের প্রবাদপ্রতিম খেলোয়াড় জোহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি এবং মার্কো ভ্যান বাস্টেনের কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
আধুনিক যুগের মহাতারকা লিওনেল মেসি (৮ বার) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৫ বার) ছাড়া আর কেউই এত ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
বার্সেলোনার এই বহুমুখী প্রতিভাধর মিডফিল্ডার গত মৌসুমে লা লিগা, কোপা দেল রে ও সুপারকোপা জয় করলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হোঁচট খেয়েছিলেন। তবে সেই প্রতিযোগিতাতেও তার প্রতিভা উজ্জ্বল ছিল—দুটি টুর্নামেন্টেই সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেয়েছেন। যা তার সামগ্রিক অবদানকে আরও মহিমান্বিত করেছে।
ট্রফি হাতে নিয়ে বোনমাতির কণ্ঠে আবেগ ঝরে পড়ে— ‘এই মঞ্চ এখনো আমাকে কিছুটা ভীত করে। যদি সম্ভব হতো, এই পুরস্কার আমি সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতাম। কারণ এটি একটি অসাধারণ মৌসুমের ফল।’
নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের পেছনে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে তিনি বিশেষভাবে সম্মান জানান— ‘তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, আমার খেলার ওপর তাদের প্রভাব চিরস্থায়ী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রথম আমরা পুরুষ দলের মতো সমান পুরস্কার পাচ্ছি। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে সমতার জন্য লড়াই করেছি। আশা করি, এই ধারা বজায় থাকবে।’
স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য সেই রাতটি ছিল এক গৌরবের। আইতানা শীর্ষে থাকলেও দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মারিওনা কালদেন্তেই। সেরা দশে আরও ছিলেন আলেক্সিয়া পুতেলাস (চতুর্থ) ও পাত্রি গুইহারো (ষষ্ঠ)। নারী ব্যালন ডি’অরের সপ্তম সংস্করণে স্পেনের এমন আধিপত্য তাদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
ক্রুইফ, প্লাতিনি, মেসি বা ভ্যান বাস্টেনের মতো কিংবদন্তিদের পাশে এখন আইতানা বোনমাতি। ফুটবল ইতিহাসে যেখানে নারী ও পুরুষের অর্জনকে আলাদা করে দেখা হয়, সেখানে তার এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ়তার কাছে লিঙ্গের কোনো সীমারেখা নেই।
আগামী বছরগুলোতে তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন, তা কেবল সময়ই বলতে পারবে। তবে আপাতত স্পেন, বার্সেলোনা এবং বিশ্ব ফুটবলের সবাই একবাক্যে বলছে—আইতানা বোনমাতি, সোনালি অক্ষরে লেখা একটি নাম।
খবরওয়ালা/টিএসএন