খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৮ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মাথা থেকে পচন ধরেছে, নিচ পর্যন্ত পচে গেছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, আওয়ামী লীগ যা ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।’
বুধবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির তিন সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশে’ বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, ‘এই সরকার গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আস্থার সরকার ছিল। কিন্তু নয় মাসের কার্যক্রমে আমরা কিছুই পাইনি, শুধু পেয়েছি অবজ্ঞা।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যে কোনো দল আসুক, নির্বাচিত সরকারের হাতে এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিরাপদ থাকবে বলে বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক ছাড়া চলেছি, ওয়াইফাই ছাড়াও চলেছি। দেশ ভালোই ছিল। স্টারলিংক আনছেন কার জন্য? আনছেন আরাকান আর্মির জন্য। করিডর কার জন্য? এখান দিয়ে আরাকান আর্মির মাল-মশলার জন্য। সেন্টমার্টিন কার জন্য? বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু একজন তরুণ বেঁচে থাকলেও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিঘ্নিত হতে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘আমি একটা মিটিংয়ে প্রশ্ন করেছিলাম সেন্টমার্টিন, সাজেকে কী হচ্ছে—এটা একটু সরকার আমাদের কাছে স্পষ্ট করুক। আজও সরকার স্পষ্ট করেনি। আজকে করিডর নিয়ে কথা হচ্ছে। করিডরে লাভ কী, লস কী—সেটা দেখার দরকার নেই। আমরা যেমন ছিলাম তেমন থাকতে চাই। এরচেয়ে বেশি কিছু আমাদের দাবি নেই। করিডরের কোনো প্রশ্নই আসে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের মধ্যে যারা আছেন, আমি বলি এই সরকার ঔপনিবেশিক সরকার। এই সরকারের মধ্যে যারা আছেন, ৯০ ভাগই এদেশের নাগরিক নয়।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আন্দোলন করলো ছাত্র-জনতা আর ওনারা ঘাড়ে চেপে বসেছেন। আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। ওনারা বললেন সংস্কার করে নির্বাচন দেবেন। এই ৯ মাসে যা পারেননি, ৯ বছরেও পারবেন না; ৯০ বছরেও পারবেন না!’
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘এই দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটা ব্যবস্থা করেন। কী ব্যবস্থা করবেন সেটা আপনারা ভালো জানেন।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশে ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। এর দোষ বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এসব চাঁদাবাজদের কেন ধরছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘তরুণদের এই আন্দোলন আমাদের দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। এই বয়সে আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বেগম খালেদা জিয়াকে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী করেছিলাম। আপনারাও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবেন।’
এই সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ ছাড়া অন্য নেতারাও এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।
খবরওয়ালা/আরডি