খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই গত দুই সপ্তাহে সারা দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত বারোটি কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্থানে কার্যালয় না খোলার পরও সামনে স্লোগান প্রদর্শন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ মূলত সরকারের মনোভাব যাচাই এবং কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের জামিন প্রাপ্তি ও মুক্তির বিষয়ে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিরূপণের উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের নেতারা এসব উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের পরোক্ষ সহায়তা বা সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। দলীয় সমর্থকরা ভোট দিয়েছিলেন, ফলে কিছুটা সহানুভূতি প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, মধ্যম ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জামিন প্রাপ্তি সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াবে। বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফেরার পথও খুলতে পারে, যদি জামিন প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হয়।
নিম্নে সাম্প্রতিক জামিন ও মুক্তির তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | নেতা/কর্মী | পদ/অবস্থান | জামিনের সময়কাল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | জেবুন্নেছা আফরোজ | বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য | জামিন | স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | দবিরুল ইসলাম | ঠাকুরগাঁও–২ সাবেক সংসদ সদস্য | দেড় বছরের কারাবাস | গুরুতর অসুস্থতা ও জামিনে মুক্তি |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস | বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য | আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিন | প্রবীণ নেতা |
এই মুক্তি ও জামিনের ঘটনা দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় খোলার চেষ্টার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ:
গোপালগঞ্জ মুকসুদপুরে উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন
নোয়াখালীর মাইজদীর জেলা কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্লোগান
রাজধানী ধানমন্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকে জাতীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রদর্শন
এছাড়া নির্বাচনের পর পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। বর্তমানে ঢাকা শহরে তিনটি বড় কার্যালয় রয়েছে—গুলিস্তান, ধানমন্ডি ও তেজগাঁও। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়গুলো ১৮ মাস ধরে বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কৌশল দুই ধারা অনুসরণ করছে:
১. মাঠে সীমিত উপস্থিতি প্রদর্শন
২. সরকারের প্রতিক্রিয়া যাচাই
দলের জন্য সরকারের অবস্থান নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বিএনপির সমর্থকদের ভোটও দলের জন্য সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রয়োজন অপরিহার্য। বিদেশে বসে রাজনীতি কার্যকর করা কঠিন, তাই দেশে বাস্তব রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
মহিউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, First আলোকে বলেন, “আওয়ামী লীগকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে হলে দেশের ভেতরে কার্যকর নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। বিদেশে থাকা নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে, তা সফল হয় কি না, তা সময়ের অপেক্ষা।”
এভাবে দলটি সরকারি সীমাবদ্ধতা, জামিন ও সমর্থক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এখনও পরিস্থিতি সীমিত হলেও এই পদক্ষেপগুলো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।