খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গুম কমিশনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সীমান্ত পেরিয়ে যৌথভাবে গুম প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। কমিশন এই কর্মকাণ্ডকে ‘আন্তঃরাষ্ট্রীয় গুম’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
গত ৪ জুন কমিশন এই প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের গোয়েন্দারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষ গুম করে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে আদান-প্রদান করতেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো লিখিত চুক্তি বা আইনি কাঠামো না থাকায় এসব ঘটনায় আইনগত প্রতিকার অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কমিশন পাঁচজন ভুক্তভোগীর জবানবন্দি উল্লেখ করে জানায়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ভারতে পাচার ও নির্যাতনের শিকার হন। একজন বলেন, “আমাকে চোখ বেঁধে ভারতের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে আবার বাংলাদেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বলা হয়, ‘তুমি মরো, তুমি বাঁচো, আমরা ঠিক করব।’
আরেকজন জানান, ভারতীয় মুসলমানদের বিষয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে তাকে ভারতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে র্যাবের হেফাজতে রাখা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ প্রক্রিয়ায় কোনো আদালতের আদেশ বা মামলা ছাড়াই বিচারবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিদের আটক, গুম ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
গুমের পর ফেরত আসা অনেককে আবার ডিজিএফআই ও র্যাবের হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং কেউ কেউ পুনরায় নিখোঁজ হয়ে যান।
কমিশনের মতে, এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। এতে নাগরিকদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়।
কমিশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ১৯ জুন গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিষয়টি বাংলাদেশের এখতিয়ারবহির্ভূত হলেও, দেশীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমসংক্রান্ত ৫-৬টি মামলার কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু গুমের ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন। সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গুমের ঘটনা সম্পর্কে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গোপন হেফাজতে থাকা সব ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ, আইনের আওতায় এসব কর্মকাণ্ড আনা এবং যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য স্বচ্ছ ও জনসম্মুখে চুক্তি করা জরুরি বলে মত দিয়েছে কমিশন।
খবরওয়ালা/আরডি