খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় মেয়েদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণী হুমায়রা মাসুদ। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এখন বৈশ্বিক পরিসরে কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছেন সুনামের সঙ্গে, এবং এবার এই তরুণী ইতিহাস গড়লেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) কায়রোর ‘ইন্দোনেশিয়ান কোরআন রিসাইটারস অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত প্রতিযোগিতার সমাপনী অধিবেশনে মেয়েদের গ্রুপে প্রথম স্থান লাভ করেন হুমায়রা মাসুদ।
এ বিষয়ে হুমায়রার স্বামী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ গুলজার আজহারি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় ১২টি দেশের মোট ১৪৩ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। মেয়েদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী হুমায়রা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আয়েশা ইজ্জত মুসলিমা (ইন্দোনেশিয়া) এবং তৃতীয় স্থান পান কায়রানি নফসুল মুতমাইন্না (ইন্দোনেশিয়া)।
এদিকে, ছেলেদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বশির উসমান ইমাম (নাইজেরিয়া), দ্বিতীয় হন মুহাম্মাদ তাওফিক হাকিম (ইন্দোনেশিয়া), এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন সওলা মুহাম্মাদ দিয়া আল হক (ইন্দোনেশিয়া)। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আল-আজহার মসজিদের ইমাম ও ক্বারী শায়খ ফাওযী আল-বারবারী আজহারি।
হুমায়রা মাসুদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার চর ভৈরবী গ্রামে। বর্তমানে তিনি মিসরের বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিওলজি অনুষদে অধ্যয়নরত। তিনি নারায়ণগঞ্জের উম্মে আইমান (রা.) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসা থেকে হিফজ এবং জামিয়া ইব্রাহিমিয়া আমিনিয়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেছেন।
এর আগে, হুমায়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১০ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন এবং ২০২৫ সালে মিসরের ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ৩১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অনারবদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে পঞ্চম স্থান লাভ করেছিলেন।
স্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে মাওলানা মাসুম বিল্লাহ গুলজার আজহারি বলেন, “তার এই অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াতে বাংলাদেশের মেয়েরা যে সাফল্য অর্জন করছে, তা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতিফলন। হুমায়রা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের মেয়েরাও বৈশ্বিক পরিসরে কোরআনের খেদমতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন হুমায়রাকে কোরআনের সেবায় কবুল করেন এবং তার এই যাত্রা আরও বরকতময় করেন।”