খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘টেনশন’ গ্রুপের প্রধান রাইসুল ইসলাম সীমান্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌচাক এলাকায় স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। গণপিটুনি দেওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সীমান্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাইসুল ইসলাম সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে তাকে মৌচাক এলাকায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। গত কয়েক বছরে তার গ্যাংয়ের হাতে নির্যাতিত ও অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত ছিল সীমান্ত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব বাহিনী বা ‘টেনশন গ্রুপ’ গড়ে তোলে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ কারণে মারধর করা ছিল এই গ্রুপের নিয়মিত কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তে ও তার বাহিনীর ভয়ে দীর্ঘদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
নিচে রাইসুল ইসলাম সীমান্তের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মামলার প্রাথমিক পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযুক্তের নাম | রাইসুল ইসলাম সীমান্ত |
| গ্যাংয়ের নাম | ‘টেনশন গ্রুপ’ (প্রধান) |
| পিতার পরিচয় | শফিকুল ইসলাম শফিক (স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা) |
| মামলার সংখ্যা | ১৮টি (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী) |
| প্রধান অভিযোগসমূহ | বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা, হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি ও মারধর |
| রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা | সাবেক এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী |
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার সীমান্তের বিরুদ্ধে দেড় ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ১৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও যোগ করেন, “সীমান্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। তার গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” সীমান্তের গ্রেপ্তারের খবরে সিদ্ধিরগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক ভুক্তভোগী এখন নতুন করে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।