খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
ফ্রিজ এমন একটি জায়গা, যেখানে অব্যবহৃত খাবার, পুরানো সস, বেচে যাওয়া পানীয় বা দুধ এবং শুকিয়ে যাওয়া সবজি জমে গিয়ে দুর্গন্ধ ও অগোছালো অবস্থার সৃষ্টি করে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে শুধু ফ্রিজই অগোছালো হয় না, খাবারের মানও নষ্ট হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘লাইফ ইন জেনারাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেন রবিন রিয়েলসিম্পল ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, একটি পরিষ্কার ও গোছানো ফ্রিজ কেবল দেখাতেই সুন্দর নয়—এটি খাবার দীর্ঘসময় টাটকা রাখে, অপচয় কমায় এবং অর্থ সাশ্রয়েও সাহায্য করে।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার
ফ্রিজে যতই জায়গা থাকুক না কেন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের কোনো স্থান নেই।
রবিন বলেন, প্রথমেই দুধ, দই, পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারের মেয়াদ দেখুন। এরপর আগের সপ্তাহের বাসি খাবার ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, ফলমূল ও সবজির ট্রে খুলে একবার দেখা উচিত। যেগুলো নরম, পচে গেছে বা পিচ্ছিল হয়ে গেছে, সেগুলো রাখা যাবে না।
রবিনের মতে, সব খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই সপ্তাহে অন্তত একদিন পাঁচ মিনিট সময় দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিসগুলো চেক করুন। এতে ভবিষ্যতের অপচয় রোধ হবে এবং ফ্রিজও থাকবে সতেজ।
অব্যবহৃত সস ও চাটনি
সবার ফ্রিজে এমন একটি বোতল থাকে, যা একবার খুলে আর ব্যবহার করা হয়নি, বলেন জেন রবিন।
তার পরামর্শ, নিজেকে প্রশ্ন করুন, গত ছয় মাসে কি এই সস ব্যবহার করেছেন বা পছন্দ করেছেন? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ফেলে দেওয়ার সময় এসেছে।
যেসব সস বা ড্রেসিং নিয়মিত ব্যবহার হয়, যেমন টমেটো সস বা মেয়োনিজ, সেগুলো স্বচ্ছ ও সহজে ধরার মতো কন্টেইনারে রাখলে ফ্রিজ হবে বেশি গোছানো।
অপছন্দের খাবার
কখনও কখনও নতুন কোনো খাবার বা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস কিনে পরে বোঝা যায়, এটি একদমই ভালো লাগছে না।
রবিন বলেন, এমন খাবারগুলো ফ্রিজে জায়গা দখল করে রাখে, অথচ খাওয়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্তে কোনো অপরাধবোধ হওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই কখনও না কখনও ভুল খাবার কিনে। বিষয়টি হল, এটি ‘আবার না করা’।
অজানা কন্টেইনার
প্রায় প্রতিটি পরিবারের ফ্রিজে কিছু ‘রহস্যময় বাক্স’ থাকে—যেগুলোর ভেতরে কী আছে, কেউ জানে না।
রবিন বলেন, যদি মনে করতে না পারেন কখন এটি রেখেছেন বা কী ছিল, তাহলে বিনা দ্বিধায় ফেলে দিন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তিনি পরামর্শ দেন, স্বচ্ছ ও লেবেলযুক্ত বাক্সে খাবার সংরক্ষণ করুন। এতে কোন বাক্সে কী আছে তা সহজেই বোঝা যাবে এবং খাবারও নষ্ট হবে না।
ভাঙা বা পুরানো সংরক্ষণ বাক্স
ফ্রিজ গোছানো রাখার জন্য ভালো মানের কন্টেইনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় পুরানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বাক্স ব্যবহার করা হয়, যার ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ হয় না বা আকারে ফ্রিজের সঙ্গে মানায় না।
রবিন বলেন, যে বাক্সের ঢাকনা বারবার খুলে পড়ে বা যেটি ফ্রিজে অগোছালোভাবে জায়গা নষ্ট করে, তা ফেলে দেওয়া উচিত। বরং এমন ‘মডুলার কন্টেইনার’ ব্যবহার করা উচিত, যা বিশেষভাবে ফ্রিজের জন্য বানানো।
এমন কন্টেইনার শুধু ফ্রিজকে পরিপাটি রাখে না, খাবারের সতেজতাও দীর্ঘায়িত করে।
একই জিনিসের একাধিক বোতল
অনেকের ফ্রিজে একই সস বা ড্রেসিংয়ের একাধিক বোতল খোলা থাকে—একটি আধা খাওয়া, একটি নতুন।
রবিন বলেন, তিনটি একই ধরনের স্যালাড ড্রেসিং বা দুই বোতল সস জায়গা নষ্ট করে।
তার পরামর্শ, যেসব বোতলের মেয়াদ কাছাকাছি, সেগুলো একত্র করুন। তবে মেয়াদ ভিন্ন হলে একসঙ্গে মেশানো উচিত নয়, এতে দূষণ হতে পারে।
এভাবে অপ্রয়োজনীয় বোতল ফেলে দিলে শুধু জায়গা বাঁচবে না, ফ্রিজও হবে পরিপাটি ও কার্যকর।
পুরানো বেইকিং সোডা
ফ্রিজের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বেইকিং সোডা কার্যকর, তবে এটি চিরকাল কার্যকর থাকে না। গন্ধ বেড়ে গেলে সেটি বদলানোর সময় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘আর্ম অ্যান্ড হ্যামার’ সংস্থা জানায়, খোলা বেইকিং সোডার বাক্স ৩০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করা উচিত। এর পর আর গন্ধ শোষণ ক্ষমতা থাকে না।
তাই প্রতি মাসে একটি নতুন বাক্স ব্যবহার করুন, এতে ফ্রিজ থাকবে সতেজ ও গন্ধমুক্ত।
খবওয়ালা/শরিফ