খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে তারা স্বাগতিক হিসেবে মাঠে নামবে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে। এরপর ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী আর্জেন্টিনা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মৌরিতানিয়া রয়েছে ১১৫তম স্থানে এবং জাম্বিয়া ৯১তম স্থানে—যা স্পষ্টভাবে শক্তির বড় ব্যবধান নির্দেশ করে।
আর্জেন্টিনার এই প্রীতি ম্যাচ সূচি নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর থেকে দলটি নিয়মিতভাবে তুলনামূলকভাবে দুর্বল বা মাঝারি মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলছে। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ দল কিংবা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এর কোনো দলের বিপক্ষে তারা খুব কমই মাঠে নেমেছে।
লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল গত কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা—সব বড় ট্রফিই এসেছে তার সময়েই। শুধু ট্রফি জয় নয়, দলটির কাঠামোগত উন্নতি ও ধারাবাহিকতা তৈরি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত ৩০টি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় ২৪টি, ড্র ৪টি এবং হার মাত্র ২টি। হার দুটি এসেছিল তার কোচিং ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে—২০১৮ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১–০ গোলে এবং ২০১৯ সালের মার্চে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩–১ ব্যবধানে।
এরপর থেকে আর্জেন্টিনা দীর্ঘ সময় ধরে অপরাজিত থাকার ধারায় রয়েছে। টানা ২৩টি প্রীতি ম্যাচে তারা অপরাজিত থেকেছে, যার মধ্যে টানা ১৫টি ম্যাচে জয় এসেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে জয় এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনা একাধিক বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে, যেমন—নিকারাগুয়া (৫–১), ইকুয়েডর (৬–১), কুরাসাও (৭–০), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৫–০) এবং পুয়ের্তো রিকো (৬–০)। এসব ম্যাচে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় বড় ব্যবধানে জয় এসেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ফরাসি দৈনিক “লেকিপ” তাদের প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত কোনো ইউরোপীয় দল কিংবা শীর্ষ ২০ র্যাঙ্কিংয়ের দলের মুখোমুখি হয়নি। একই সময়ে ব্রাজিল অন্তত ১০টি উচ্চমানের দলের বিপক্ষে খেলেছে এবং কলম্বিয়াও শীর্ষ পর্যায়ের ৯টি ম্যাচে অংশ নিয়েছে।
| বছর | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | ফিফা র্যাঙ্কিং (প্রায়) |
|---|---|---|---|
| ২০২৩ | পানামা | জয় | নিম্ন |
| ২০২৩ | কুরাসাও | জয় | নিম্ন |
| ২০২৩ | অস্ট্রেলিয়া | জয় ২–০ | ২৯তম |
| ২০২৪ | ইকুয়েডর | জয় | মাঝারি |
| ২০২৪ | কোস্টারিকা | জয় | নিম্ন |
| ২০২৫ | অ্যাঙ্গোলা | জয় | নিম্ন |
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্জেন্টিনার এই ম্যাচ কৌশল মূলত দলগত সমন্বয়, নতুন খেলোয়াড় যাচাই এবং শারীরিক প্রস্তুতি ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও উচ্চমানের প্রতিপক্ষের অভাব বড় প্রতিযোগিতার আগে প্রকৃত পরীক্ষার ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে টানা ১১টি ম্যাচে জয় পাওয়ায় আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতেও এই ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।