খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে এক সংবেদনশীল অবস্থায় নিয়ে এসেছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিবাদ দ্রুত অস্থিরতায় রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিতিশীলতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। তারা ইরানি জনগণের বাস্তব সমস্যা ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এমন ব্যক্তিদের সমর্থন প্রদান করেছেন, যারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি ইরানি সরকারের প্রতি সরাসরি হুমকি উচ্চারণ করেছেন। যদিও ট্রাম্প নিজেকে ইরানের জনগণের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছেন, ১২ দিনের সংঘর্ষে ইসরেলের পাশে থাকার কারণে এক হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ বায়াত বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করা।”
গত সাত মাসে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের দ্রুত পুনর্নির্মাণের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেকো-সার্ভেটিভ’ কৌশল সীমিত সময়ের জন্য কার্যকর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুসারে, নেতানিয়াহুর ফ্লোরিডার সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শক্তির উৎসের ওপর নতুন হামলার ‘গ্রীন লাইট’ নেওয়া, গাজা বা লেবানন বিষয় নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের অর্থনৈতিক, জাতিগত ও লিঙ্গভিত্তিক ভেদাভেদকে কাজে লাগিয়ে ‘নাগরিক যুদ্ধের’ পরিবেশ তৈরি করতে চায়। এই কৌশলকে ‘লিবিয়ান করা’ বলা হচ্ছে, যাতে পারমাণবিক কেন্দ্র, আইআরজিসি ঘাঁটি ও মিলিটারি ইউনিটে হামলার জন্য বৈশ্বিক সমর্থন অর্জন করা যায়।
পশ্চিমা মিডিয়া ইরানের বিভিন্ন প্রতিবাদকে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতনের হিসেবে উপস্থাপন করলেও, বাস্তবে এসব প্রতিবাদ ২০১৯ ও ২০২২ সালের তুলনায় সীমিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরিস্থিতি সামরিক আগ্রাসনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে ইরানের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবাদের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মুদ্রার হ্রাস | প্রতি সপ্তাহে ৫–৭% |
| মূল্যস্ফীতি | ৫০% |
| প্রধান প্রতিবাদ কেন্দ্র | তেহরান, ইসফাহান, মাশহাদ |
| প্রতিবাদের ধরন | খাদ্য, জ্বালানি ও জীবনযাত্রা খরচ কেন্দ্রিক |
| মৃত্যুর সংখ্যা | ১২ দিনের সংঘর্ষে ১,০০০+ |
ট্রাম্পের Truth Social-এ প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সহিংসতার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ জাতিসংঘের চার্টারের ধারা লঙ্ঘন করে এবং নির্বাচনী বছরে রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করে।
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিলতা শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, এটি বৈশ্বিক কূটনীতি ও শক্তি সংঘর্ষেরও অংশ।