খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির তেল খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর ইরানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ইরাকি ব্যবসায়ী সালিম আহমেদ সাঈদ এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মার্কিন অভিযোগ—সাঈদের মালিকানাধীন কোম্পানি ইরাকি তেলের সঙ্গে ইরানি তেল মিশিয়ে তা বিক্রি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের নেতারা শান্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চরমপন্থা বেছে নিয়েছেন। তেহরানের রাজস্বের উৎসগুলো লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে, যাতে শাসনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ব্যাহত হয়।’
এর আগে ২৪ জুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, চীন হয়তো ইরানি তেল কিনতে পারবে। তবে পরে ট্রাম্প সে অবস্থান থেকে সরে আসেন।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে—এই দাবির জেরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সব প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েল খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, তবে তিনিই সেটা ঠেকিয়েছেন, যাতে ‘অপমানজনক মৃত্যু’ না ঘটে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও ‘বাস্তব কোনো অপারেশনাল সুযোগ ছিল না’।
১৩ জুন ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হন, বেসামরিক নিহতের সংখ্যাও শতাধিক। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। পরে ট্রাম্পের উদ্যোগে ও কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ হয়।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে পড়েছে। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ-কে সহযোগিতা স্থগিত করে একটি আইন পাস করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি স্কাই নিউজকে জানান, ওমান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছে। কূটনীতিকে প্রতারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।’
খবরওয়ালা/এন