খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর তেহরান যে বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে। শুরুতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হতাহতের তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। রোববার (১ মার্চ) পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা সাড়ে চারশ ছাড়িয়ে গেছে।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) প্রথমে কেবল দুজন নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর আসতে থাকে। বিশেষ করে জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্য ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি আঘাত হানলে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। বেইত শেমেশ শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
নিচে ইসরায়েলে ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের একটি পরিসংখ্যানগত সারণি তুলে ধরা হলো:
| হামলার স্থান/বিবরণ | নিহতের সংখ্যা | আহতের সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
| জেরুজালেম (পশ্চিম অংশ) | ৬ জন | ১১ জন (গুরুতর) | উদ্ধার অভিযান অব্যাহত। |
| বেইত শেমেশ (মধ্য ইসরায়েল) | ৪ জন | ৮৫ জন (আইসিইউ) | বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। |
| সামগ্রিক পরিসংখ্যান | ১০ জন | ৪৫০+ জন | অন্তত ৮৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। |
ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ৮৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আহতদের মধ্যে একজন অল্পবয়সী মেয়েসহ বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক রোগী শরীরে মারাত্মক দহন ও ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। রক্ত ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে অনেক হাসপাতাল।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার যে ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ সিস্টেমকে অনেক ক্ষেত্রে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে এই পরিমাণ প্রাণহানি নেতানিয়াহু সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরায়েল যদি পুনরায় কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে, জেরুজালেমের পশ্চিমে হওয়া হামলাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মনোবলকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাঙ্কারের দিকে ছুটছেন।