খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নামিয়ে এনেছে ওয়াশিংটন। গত শুক্রবার মার্কিন প্রশাসন ইরানের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দপ্তর বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি সরাসরি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (এলইএফ)-এর তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই বাহিনী ইরানের সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সহিংস কায়দায় বাধা প্রদান করেছে এবং অসংখ্য বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর জন্য এই সংস্থাই প্রধানত দায়ী। তেহরানের রাজপথে জনগণের মৌলিক অধিকার দাবির আন্দোলনকে দমনের প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করছে বাইডেন প্রশাসন।
নিচে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া প্রধান কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কর্মকর্তা/সংস্থা | পদবি/ভূমিকা | অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| এস্কান্দার মোমেনি | ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি পরিচালনা এবং দমন-পীড়নের নির্দেশ প্রদান। |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (LEF) | প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা | শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি বর্ষণ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী সংস্থা হিসেবে অভিযুক্ত। |
| অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা | সরকারের নীতি নির্ধারণী সদস্য | নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মানবাধিকার হরণের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা। |
মার্কিন ট্রেজারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সরকার দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং সমাবেশের অধিকার হরণ করে আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনি এবং তাঁর অধীনস্থ বাহিনীগুলো যে ধরণের দমনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, তা আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সকল প্রকার সম্পদ জব্দ করা হবে এবং মার্কিন কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বিধি-নিষেধের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। বিশেষ করে নারী অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে এই আন্দোলন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের নীতি পুলিশ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে নতুন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা তেহরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খুব দ্রুত বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও, দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই ধরণের নিষেধাজ্ঞাকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে কোনো শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।