খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীকে ভারত মহাসাগরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত আমেরিকার দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে আগাম হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেন এই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানকে শর্ত দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানকে বলছেন, তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ করতে হবে। না হলে ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। তবে ইরান এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট বলেছেন, মার্কিন হুমকির কাছে ইরান কখনো মাথা নত করবে না এবং ইরানে হামলা হলে তার কঠিন প্রতিক্রিয়া হবে।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ চাগোসের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘাঁটিতে চারটি ‘স্টিলথ বি-টু স্পিরিট’ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। এপি আরও জানিয়েছে, এই বিমানগুলোর এক চতুর্থাংশ বর্তমানে দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থান করছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই ঘাঁটিতে তিনটি যুদ্ধবিমান দেখা গেছে।
এই বিমানগুলো ইরান থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার না করেই বিমানগুলোকে ব্যবহার করতে পারবে। বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো, যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত বোমা বহন করতে সক্ষম, মার্কিন অস্ত্রাগারের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে প্রতিপক্ষের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থেকে সহজে ধরা না পড়ে এবং গভীর আক্রমণ চালানো যায়।
এদিকে, যখন চাগোস দ্বীপে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর সামনে আসে, তখন দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের হুমকি আরও গুরুতর হলে ইরান ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি চাগোস দ্বীপে আগাম হামলা চালানোর জন্য তার সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, “আমেরিকানরা যখন সেখানে বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে, তখন দ্বীপটির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।”
এই পরিস্থিতি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি নতুন এবং গুরুতর দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।
খবরওয়ালা/এমবি