খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে পৌষ ১৪৩২ | ১০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানে কয়েক দিন ধরেই চলমান বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক সঙ্কট, বেড়ে চলা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মৌলিক মানবাধিকারের অভাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ ধারণ করেছে এবং ইসলামিক রিপাবলিকের শাসন কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, উভয়পক্ষেই আহত এবং নিহতের ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের মাত্র ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জনের মৃতদেহ পৌঁছেছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ এবং গুলিবিদ্ধ ছিলেন। সরকার এখন পর্যন্ত নিহতদের বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত থাকায় স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন সংখ্যা প্রকাশ করছে, যা তথ্য সংগ্রহে বর্তমান সীমাবদ্ধতার পরিচয় দেয়।
প্রতিবেদিত মৃত ও আহত সংখ্যা (মিডিয়া সূত্র অনুযায়ী)
| তারিখ | অঞ্চল/শহর | মোট মৃত্যু | নিরাপত্তা বাহিনী | বিক্ষোভকারী/নাগরিক |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ডিসেম্বর | সারাদেশ | ৬২ | ১৪ | ৪৮ |
| ৮ জানুয়ারি | কারমানশাহ | ৮ | ৮ | ০ |
| ৯ জানুয়ারি | তেহরান (হাসপাতাল) | ২১৭ | অজানা | অধিকাংশ তরুণ |
| মোট | সারাদেশ | ২৮৭+ | ≥২২ | ২৬৫+ |
ওয়াশিংটন ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি অনুযায়ী, অন্তত ৬৩ জন নিহত নিশ্চিত করা গেছে, যার মধ্যে ৪৯ জন সাধারণ নাগরিক। এটি বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে প্রমাণের পার্থক্য প্রকাশ করে।
প্রথম দিকে অর্থনৈতিক সমস্যার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বহু শহরে সরকারি ভবন, প্রশাসনিক অফিস ও পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া, প্রখ্যাত রেভলিউশনারি গার্ড কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির ভাস্কর্যও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, যা জনসাধারণের গভীর ক্ষোভের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি নজর রাখছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের বিক্ষোভ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়ছে। পরিস্থিতি এখনো অস্থির এবং অপ্রত্যাশিত, যা সরকারী কঠোর পদক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীদের দমনে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে তৈরি হয়েছে।