খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরীণ একটি জলাশয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এক রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার তাজনিমারখোলা (ক্যাম্প-২০ বর্ধিত) আশ্রয়শিবির এলাকা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত নারী পার্শ্ববর্তী বালুখালী আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহত নারীর নাম মরজান বেগম (৩৩)। তিনি বালুখালী (ক্যাম্প-১৯) আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের মেয়ে। প্রায় ১০ বছর আগে হাশেম উল্লাহ নামক এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে মরজান বেগম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও তাঁর কোনো হদিস পাননি। আজ সকালে তাজনিমারখোলা শিবিরের এস-৪ ও বি-৭ ব্লকের মধ্যবর্তী একটি জলাশয়ের পানিতে বোরকা পরিহিত অবস্থায় তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় রোহিঙ্গারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ওয়ালাপালং পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল। পরবর্তীতে উপস্থিত রোহিঙ্গা নারীদের সহযোগিতায় জলাশয় থেকে মরজান বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ওয়ালাপালং ক্যাম্প কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার আবু হানিফ জানান, নিহত নারী ক্যাম্পের নিয়মিত বাসিন্দা ছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছে এবং মরদেহটি কীভাবে জলাশয়ে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। বিকেলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
| নিহতের নাম | মরজান বেগম (৩৩) |
| পিতার নাম | নুর মোহাম্মদ |
| স্বামীর নাম | হাশেম উল্লাহ |
| স্থায়ী আবাস | বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১৯) |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | তাজনিমারখোলা আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-২০ বর্ধিত) |
| নিখোঁজের সময় | বুধবার সন্ধ্যা (২৫ ফেব্রুয়ারি) |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | বৃহস্পতিবার সকাল ৮:৩০ মিনিট |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | ১৪ এপিবিএন ও উখিয়া থানা পুলিশ |
| বর্তমান অবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ |
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করে এপিবিএনের তিনটি ব্যাটালিয়ন (৮, ১৪ এবং ১৬)। ক্যাম্প-২০ এবং তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো পাহাড়বেষ্টিত এবং অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয় এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি দুর্ঘটনা না কি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতাদের মতে, নিখোঁজ হওয়ার পর এত দ্রুত মরদেহ অন্য একটি ক্যাম্পের জলাশয়ে পাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মরজান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।