খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই এপ্রিল ২০২৬, ১:৩৯ পিএম
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আজ দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানতে পারে। এই ঝড়ের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে কোনো কোনো স্থানে বাতাসের গতিবেগ এর চেয়েও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে এই ঝড় অতিক্রম করবে। বছরের এই সময়ে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপ বা স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের কারণে এ ধরনের শক্তিশালী কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়।
সতর্কবার্তায় কেবল ঝোড়ো হাওয়ার কথাই বলা হয়নি, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যান্য অনুষঙ্গ নিয়েও সচেতন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মতে, ঝড়ের সময় প্রবল বজ্রপাত এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝড়ের সময় খোলা জায়গা বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিচে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তার আলোকে একটি তথ্য তালিকা প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| সতর্কবার্তার সময়কাল | ৩০ এপ্রিল দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা |
| প্রভাবিত বিভাগসমূহ | ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর |
| ঝড়ের সম্ভাব্য গতিবেগ | ঘণ্টায় ৬০-৮০ কি.মি. (বা তারও বেশি) |
| ঝড়ের দিক | পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক |
| আনুষঙ্গিক দুর্যোগ | প্রবল বজ্রপাত ও বিচ্ছিন্ন শিলাবৃষ্টি |
| ঝড়ের ধরণ | তীব্র কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়া |
কালবৈশাখীর এই মৌসুমে আকস্মিক ঝড়ের কারণে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নৌপথগুলোতে চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। এছাড়া ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং বড় গাছপালা থেকে দূরে থাকা জরুরি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে, বায়ুমণ্ডলের এই অস্থির অবস্থা কালবৈশাখীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও এর তীব্রতা জনজীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আপডেট প্রদান করা হবে। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার সংবাদের দিকে নজর রাখতে এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য