খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলি হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি বাছাই নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তৎপরতা শুরু হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামেনির গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।
খামেনির বয়স এখন ৮৬ বছর। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলার পর তিনি ও তার পরিবার গোপন বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিপ্লবী গার্ডের বিশেষ ইউনিট ‘ভালি-য়ে-আমর’ তাদের পাহারা দিচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, খামেনি নিহত হলে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার বার্তা দিতে দ্রুত নতুন নেতা ঘোষণা করতে চায় ইরান সরকার। তবে উত্তরসূরি নির্বাচন সহজ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
উত্তরসূরি আলোচনায় শীর্ষ দুই প্রার্থী হলেন — খামেনির ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মুজতবা খামেনি এবং ইসলামী বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেইনি।
মুজতবা খামেনি মূলত বাবার নীতিরই ধারাবাহিকতা বহন করেন। তিনি মধ্যম সারির আলেম এবং কোয়ামে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ান। তবে সরকারি কোনো পদে তিনি কখনো ছিলেন না, অথচ দীর্ঘদিন ধরেই বাবার দপ্তরের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ২০১৯ সালে তাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
অন্যদিকে, ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেনি সংস্কারপন্থীদের ঘনিষ্ঠ এবং দেশে-বিদেশে কিছুটা মিতব্যয়ী ভাবমূর্তির কারণে বর্তমান সংকটে তিনি আরও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাসান খোমেনি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইরানি জনগণের একজন নগণ্য সেবক হিসেবে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমি প্রস্তুত।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপ্লবী গার্ড চাইলে কোনো অখ্যাত আলেমকে নেতার আসনে বসিয়ে পেছন থেকে ক্ষমতা চালাতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ‘খামেনির মতো ক্ষমতার দণ্ড হাতে রাখার মতো নেতা হয়তো আর আসবে না। নতুন নেতা নিয়ন্ত্রণে থাকতে গার্ডরা পুতুল বসাতেও পারে।’
ইসরায়েলি হামলায় বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ায় উত্তরসূরি প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, অন্য সম্ভাব্য প্রার্থী বিচার বিভাগের সাবেক প্রধান শাহরুদিও মারা গেছেন।
লন্ডনভিত্তিক বিশ্লেষক হোসেইন রাসাম বলেন, ‘যুদ্ধ ও বৈশ্বিক চাপের প্রেক্ষিতে ইরানকে ধীরে ধীরে রূপান্তরের দিকে নিয়ে যেতে পারে হাসান খোমেনি।’
১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর, তৎকালীন মধ্যম সারির আলেম খামেনিকে উত্তরসূরি ঘোষণা করে শাসনব্যবস্থা। প্রথমে অনেকে তাকে দুর্বল মনে করলেও বিপ্লবী গার্ডের ভরসায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে একে দমন করে একক ক্ষমতার অধিপতি হন।
খবরওয়ালা/এন