খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
চলতি বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণের সংখ্যাই শুধু বাড়ছে না, অনেক রোগীর মধ্যেই দেখা দিচ্ছে জটিল উপসর্গ, যাদের অনেককেই রাখতে হচ্ছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। এমন প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গুর বর্তমান ধরনকে ‘পরিবর্তিত’ উল্লেখ করে বিশেষ চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন আর আগের মতো নয়। রোগের ধরন বদলে গেছে, অনেক রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। তাই বাড়ছে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন।’
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সহায়ক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি পোর্টেবল আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ২১টি বেডসাইড হেমাটোক্রিট মেশিন এবং ১,৬০০টি ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সামগ্রী।
স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও জটিলতা নিরূপণে এই যন্ত্রপাতিগুলোর প্রয়োজনীয়তা এখন অনেক বেশি। এতে করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং জটিলতা হ্রাস পায়।
তিনি আরও জানান, বরগুনায় সাম্প্রতিক একটি আউটব্রেক দেখা দিলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সারাদেশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে জনসচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. আবু জাফর বলেন, ‘জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।’
ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিরা জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থেকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পর জমে থাকা পানি এবং বাড়তি তাপমাত্রা মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
খবরওয়ালা/এন