এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 5শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
‘যেতে দাও আমায় ডেকো না, কবে কী আমি বলেছি মনে রেখো না’— এই অমর পঙ্ক্তি-স্রষ্টা, উপমহাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বাংলা গানের ভুবনে রেখে গেছেন অবিনাশী সৃষ্টির ভান্ডার।
১৯২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা গিরিজাপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা উদ্ভিদবিদ। শৈশবে খেলাধুলা আর কৈশোরে ছবি আঁকার প্রতি আকর্ষণ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি খুঁজে পান তাঁর প্রাণের জায়গা—কবিতা ও সঙ্গীতে।
গানের প্রতি টান থেকেই কিছুদিন তিনি অনুপম ঘটকের কাছে গান শেখেন। পড়াশোনার সূত্রে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়নকালে তাঁর লেখা ‘বঁধু গো এই মধুমাস’ গানটি শচীন দেববর্মণ নিজে সুরারোপ করে প্রথম রেকর্ড করেন। সেই গানই তাঁর গীতিকার জীবনের পথচলা শুরু করে।
এরপর একে একে বাংলা আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রে তিনি হয়ে ওঠেন অনন্য গীতিকার। অগ্নিপরীক্ষা, পথে হল দেরী, হারানো সুর, সপ্তপদী, দেয়া নেয়া, মরুতীর্থ হিংলাজ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তাঁর অমর গান দিয়ে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। বিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে বাংলা ছায়াছবি ও আধুনিক গানের আঙিনাকে তিনি আলোয় ভরিয়ে রেখেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সহজ-সরল এবং আত্মিক বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গীতিকার ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে।
দীর্ঘ এক দশক ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তবে তাঁর লেখা হাজারো গানের সুর আর ছন্দ আজও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে।
বাংলা গানের ইতিহাসে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এক অনন্য নাম—যাঁর কলম বাংলা সঙ্গীতকে দিয়েছে অনন্ত আবেদন।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড