খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যায্য শুল্ক আরোপের কারণে রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। এশিয়ার দেশ বিশেষ করে উদীয়মান পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বাংলাদেশের পণ্যের ভালো বিকল্প বাজার হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর নিজস্ব কার্যালয়ে ‘শুল্ক কারসাজির যুগে বাণিজ্যনীতি, বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত’ শিরোনামে এক আলোচনায় সভায় এমন মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি। এ সভার আয়োজন করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এবং পরিচালনা করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান ও গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রিশনের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের ঘোষণা সমালোচনা করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্যের বিষয়টিকে এখন অস্ত্রে রূপান্তরিত করেছে। এ ধরনের শুল্কারোপ অন্যায্য এবং বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা–ডব্লিউটিওর নীতির প্রতি অবহেলা। তবে শেষ পর্যন্ত এ শুল্ক কাঠামো টেকসই হবে না। খোদ যুক্তরাষ্ট্রই এ পদক্ষেপ থেকে কোনো সুফল পাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশও যেভাবে উচ্চ শুল্কের খড়্গ থেকে বাঁচতে রপ্তানি বৃদ্ধির কথা বলেছে, তা বাজার অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
সিডিপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে কটন বা সুতা আমদানি করা হয় বিনা শুল্কে। সেই সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু আমরা কি চাইলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা আমদানি বাড়াতে পারব? আমরা বিভিন্ন ধরন, দাম ও বাজারের জন্য পোশাক উৎপাদন করি। ফলে সব পোশাক মার্কিন সুতা দিয়ে তৈরি করা যাবে না; কমান্ড ইকোনমির মতো হুকুম দিয়ে তো এই আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়।’
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, ‘নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে এটা খারাপ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটা শেষ ধাক্কা। আমরা কীভাবে সেখান থেকে বের হব, সেটা কেউ জানে না। যুক্তরাষ্ট্রও বাণিজ্যঘাটতিতে আছে, তারা যা উৎপাদন করে, তার চেয়ে বেশি খরচ করে। বাংলাদেশ চলতি হিসাবের ঘাটতিতে আছে, অর্থাৎ আমরা সঞ্চয়ের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছি। এটা খারাপ কিছু নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বাংলাদেশের করভার অনেক; নিয়মনীতিতে স্বচ্ছতা নেই। দুর্নীতি আছে, মেধাস্বত্ব অধিকার নেই। সরকার কর কমিয়ে দিতে পারবে, কিন্তু এর বাইরে যে সমস্যাগুলো আছে, তার সমাধান হবে কীভাবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমিয়ে আনতে বিশ্বের সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। যা পরদিন ৩ এপ্রিল কার্যকর হয়। এতে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৭ শতাংশ। আর অন্যদিকে মুহূর্তেই যেন কাঁপতে শুরু করে বিশ্ববাজার। শেয়ারবাজারে দেখা দেয় ধস, ধনকুবেরদের সম্পদ গলতে থাকে বরফের মতো, আর নানান দেশ থেকে শোনা যাচ্ছে ক্ষোভের গুঞ্জন।
খবরওয়ালা/আরডি