খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে পৌষ ১৪৩২ | ১৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বর্ণিল আয়োজন, স্নাতকদের উৎসবমুখর পদচারণা আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান—সব মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তন ছিল আনন্দ ও হতাশার মিশ্র প্রতিচ্ছবি। তিনটি ব্যাচের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত এই সমাবর্তন শেষ পর্যন্ত নানা অসঙ্গতি, বিক্ষোভ আর বর্জনের অভিযোগে আলোচিত হয়ে উঠেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই ক্যাম্পাসে শুরু হয় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা। শোভাযাত্রা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সাবাস বাংলাদেশ মাঠ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর ঘুরে কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সকাল পৌনে ১০টায় অতিথিদের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
| বিষয় | তথ্য |
| সমাবর্তন | দ্বাদশ |
| বিশ্ববিদ্যালয় | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় |
| অংশগ্রহণকারী ব্যাচ | ৩টি |
| মোট স্নাতক | ৫,৬৬৯ জন |
| প্রধান অতিথি ও সভাপতি | শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার |
| সমাবর্তন বক্তা | ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজ |
| ভেন্যু | কেন্দ্রীয় স্টেডিয়াম |
সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের ডিনরা শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি উপস্থাপন করেন এবং শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. মাঈন উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। দুপুর আড়াইটার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন স্নাতক, যারা শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, সমাজের ওপর নিজেদের কাজের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন করবে। সততা, ন্যায়বোধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানই একজন শিক্ষিত মানুষের প্রকৃত পরিচয়।”
ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “চঞ্চলতা ও অস্থিরতার পেছনে না ছুটে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।”
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু প্রতিবার পড়ে গিয়ে আরও শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর মানসিকতাই আপনাদের এগিয়ে নেবে।”
তবে আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে অসন্তোষ। স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ফাঁকা। সনদ বিতরণের সময় উপস্থিত একাংশ শিক্ষার্থীর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও শোনা যায়। একাধিক স্নাতকের দাবি, অতিথি তালিকা পুনর্বিবেচনাসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রশাসন সাড়া না দেওয়ায় তারা মূল অনুষ্ঠান বর্জন করেন।
স্নাতক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করেছে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এলেও মূল অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”
সমাবর্তন ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না দেওয়া নিয়ে। গণমাধ্যমকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান শিবলী নোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন অবহেলা তিনি আগে দেখেননি।
সব মিলিয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন একদিকে স্নাতকদের আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকলেও অন্যদিকে অব্যবস্থাপনা ও অসন্তোষের কারণে একটি প্রশ্নবিদ্ধ আয়োজন হিসেবেও আলোচনায় রইল।