খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালীতে শহীদের তালিকায় এক মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উঠেছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা বশির সরদার (৪০) জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ না করলেও তাঁকে ‘শহীদ’ দেখিয়ে সরকারের অনুদান গ্রহণ করেছে পরিবার। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে ওই অনুদান ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে।
বশির সরদারের বড় ভাই নাসির উদ্দিন সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুলাইয়ে পায়ে লোহা ঢুকে আহত হন বশির। পরে আগস্টে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৫ নভেম্বর মারা যান। অথচ তাঁকে গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও পরে শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে পরিবার সরকারের কাছ থেকে অনুদান নেয়।
বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বুধবার মন্ত্রিপরিষদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে বশিরের নাম শহীদদের তালিকা থেকে বাতিল এবং তাঁর নামে দেওয়া সঞ্চয়পত্র স্থগিতের সুপারিশ করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধি সজীবুল ইসলাম জানান, বশিরের চিকিৎসার সময় তাঁর পরিবার ভুল তথ্য দিয়ে তাঁকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরে। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু পরে এই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে পরিবারে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
বশিরের স্ত্রী রেবা আক্তার বলেন, গত বছরের ৩ জুলাই জেলা শহরের চৌরাস্তা থেকে বাসায় ফেরার পথে পায়ে লোহা ঢুকে তাঁর স্বামী মারাত্মকভাবে আহত হন। একপর্যায়ে ক্ষতস্থানে পচন দেখা দিলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসা করাতে অনেক ধারদেনা ও ঋণ করতে হয়েছে। বশিরের মৃত্যুর পর দুই সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েন। পরে নাসিরের প্ররোচনায় সরকারি অনুদান পেতে ভুল তথ্য দিয়ে শহীদের তালিকায় বশিরের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু একপর্যায়ে অনুদানের একটি বড় অংশ দাবি করেন বশিরের মা–বাবা ও ভাই। তাঁদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিসির কাছে অভিযোগ দেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বশিরের বাবা সেকান্দার সরদার। তিনি বলেন, বশিরের চিকিৎসা করাতে তিনি পাঁচ লাখ খরচ করেছেন। কিন্তু সরকারের দেওয়া অনুদানের ১২ লাখ টাকা রেবা আক্তার একাই ভোগ করছেন। এ কারণে তাঁর বড় ছেলে নাসির প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে ডিসির কাছে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, নিজের ভুল বুঝতে পেরে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, নিহত পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেজল্যুশন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশনা এলে বিষয়টি কার্যকর হবে।
খবরওয়ালা/এন