বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

কলাম

শিক্ষা সংস্কার অগ্রগণ্য বিষয় নয় কেন?

মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

শিক্ষা সংস্কার অগ্রগণ্য বিষয় নয় কেন?
ছবি: খবরওয়ালা

বিগত বছরের জুলাই-আগষ্টে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দুই ধাপে মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। এই কমিশনগুলো হল – সংবিধান, বিচার, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শ্রম, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম ও নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন। কিন্তু এই কমিশনগুলো ছাড়াও আরও একটা কমিশনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা ও তার ওপর গভীরভাবে কাজ করার তাগিদ অনুভব করছেন দেশের তাবৎ শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা তথা অভিভাবকগণ। সংগত কারণেই সেই ক্ষেত্রটা হল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কার।

এর যৌক্তিক কিছু কারণও আছে। একদিকে গত এক দশকে তথাকথিত পরীক্ষণের নামে বারবার শিক্ষা কারিকুলাম ও পঠন-পাঠন পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের ওপর যেমন স্টিমরোলার চালানো হয়েছে, তার ওপর এ সময়ে হঠাৎ বিশ্বজুড়ে এসে আবির্ভূত হয়েছিল মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস। এর ফলে একটা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আনুমানিক পৌনে ছয় কোটি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী (সংখ্যার বিচারে যা বিশ্বের একশটা দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে সরে পড়ে।

সে সময় প্রায় আড়াই বছর ধরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বারবার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেবল ছুটি বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েই যেন এ খাতের নীতিনির্ধারকেরা তাদের দায়িত্ব পালন করে। এই পৌনে ছয় কোটি ঘরবন্দি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কি, কীভাবে তারা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেবে, একটি বছরেরও বেশি শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে চলে যাওয়ায় যাদের চাকরির বয়স পার হয়ে যাচ্ছে – তাদের জন্য কী করণীয় এসব নিয়ে কোন ভাবনা সে সময়টায় দেখা যায়নি। যদিও এ সময় কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে, কিন্তু বেশিরভাগ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল এটা আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে মাসিক বেতন ও অন্যান্য অতিরিক্ত ফি আদায়ের কৌশল মাত্র। তাছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীভুক্ত এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বা সামর্থ্য নেই এবং সামগ্রিক অর্থে সারাদেশ জুড়ে সে ধরনের অবকাঠামোও এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি, ফলে এখানেও এক ধরনের বৈষম্যের প্রতিফলন দেখা গেছে। এ সময়ে খুব স্বল্প পরিসরের শিক্ষা কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি সংযোজন করে নামকাওয়াস্তে পাবলিক পরীক্ষা সহ সকল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষা  গ্রহণের মারাত্মক ঘাটতি নিয়েই শিক্ষার্থীরা উপরের ধাপের ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়!

এরপর শুরু হয় শিক্ষা নিয়ে নতুন পরীক্ষা, যা মূলত শিক্ষার্থীদের বাদবাকি জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলনের পরিবর্তে এর সাথে সম্পৃক্ত নীতিনির্ধারণী মহল সম্পূর্ণ যুগ অনপোযোগি ও প্রহসনমূলক শিক্ষা কারিকুলাম প্রচলনে তৎপর হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের প্রতি উদাসীনতা আর তাদের পিতা-মাতা তথা অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। এমনিতেই করোনার কারণে দীর্ঘকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মারাত্মক অনীহা তৈরি হয়ে গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্দি থাকার ফলে মানসিকভাবেও সেসময়ে তারা অনেকে অসুস্থ হয়ে ওঠে। ফলে তখন থেকেই ইমোশনাল রিঅ্যাকশন, মেজাজ খিটমিটে হওয়া, মারাত্মক জেদি আচরণ, ইন্টারনেট ও মোবাইলে আসক্তি, ইত্যাদি মারাত্মকভাবে তাদের মধ্যে বেড়ে যায়। তখন থেকে আজ অবধি শারীরিকভাবে চলাফেরা না করার কারণে তাদের ঘুমে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটছে। বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই রাত জেগে ভিডিও গেমসহ নানা রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত সময় কাটিয়ে দিনের বেলা ঘুমাতে পছন্দ করে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার তাগিদও তাই অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমে গেছে!

সব মিলিয়ে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব সংকট কাটাতে না কাটাতেই দেশের শিশু-কিশোর-যুব তথা পুরো ছাত্রসমাজ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব হয়ে ওঠে এবং পতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেখাপড়া বিসর্জন দিয়ে রাজপথ তারা কাঁপিয়ে রাখে। অবশেষে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত হলেও সকল শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে শুরু হয় শিক্ষা নিয়ে নতুন সংকট। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার যেমন স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়নি, তেমনি রাজনৈতিক কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটা বিরাট অংশকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবকিছু থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা, বহিষ্কার করা বা সম্পূর্ণভাবে দূরে সরে রাখা হয়েছে, অথবা অনেকে ভয়ে পালিয়েও গেছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আবার বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিত্যনতুন দাবিদাওয়া নিয়ে রাজপথ যেমন উত্তাল হয়ে আছে, সেই দলে আবার প্রায়শই দেখা যাচ্ছে বেসরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা দাবিদাওয়া নিয়ে বহুমাত্রিক আন্দোলন। ফলে শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ছাত্র-ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আর যাই হোক ক্লাস আর সেভাবে হচ্ছেনা। ফলে বহুমুখী সুনামিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে উঠেছে আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা।

আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে সামনের পথ আরও বন্ধুর এবং অনেকটা সময় পাড়ি দিতে হবে। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয় রোধে বিকল্প ও বাস্তবসম্মত চিন্তা এখনই করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সবার আগে। সেজন্য অন্যতম অগ্রাধিকার পাওয়ার বিষয় হওয়া উচিত ছিল শিক্ষা সংস্কার। তা না হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যদি এভাবে অচল হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সুশিক্ষিত জাতি হিসাবে এগিয়ে চলার স্বপ্নপূরণ অধরাই থেকে যাবে। অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক এখনকার বিশ্বে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে টিকে থাকাটাও হয়ে উঠবে অনেক বেশি কঠিন!

লেখক সমাজ বিশ্লেষক, গবেষক ও পলিসি এডভোকেট।

খবরওয়ালা/এসআর