খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। তবে ব্যক্তিগত সাফল্য ছাপিয়ে দলের পরাজয় এবং আগামীকালের দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে নিজের স্থান ধরে রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক কৌতূহল উদ্দীপক সমীকরণ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ম্যাচটি এখন বাংলাদেশের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রথম ওয়ানডেতে শরীফুলের একাদশে অর্ন্তভুক্তি ছিল বেশ নাটকীয়। টস হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে তিনি মূল একাদশে থাকছেন। অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ডান হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করায় একদম শেষ মুহূর্তে শরীফুলকে সুযোগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে শরীফুল বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ২.৭০ ইকোনমি রেটে তিনি ২৭ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। দলের পরাজয়ের দিনেও তার মিতব্যয়ী বোলিং ছিল ইতিবাচক দিক।
প্রথম ওয়ানডেতে শরীফুলের বোলিং পরিসংখ্যান:
| ওভার | মেডেন | রান | উইকেট | ইকোনমি রেট |
| ১০ | ০ | ২৭ | ২ | ২.৭০ |
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে একাদশ সাজাতে গিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। মোস্তাফিজুর রহমান এখন সম্পূর্ণ ফিট, অন্যদিকে শরীফুল ইসলাম সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে একাদশে কার জায়গা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে শরীফুল বিষয়টি পেশাদারত্বের সাথে দেখছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, দলের ১৫ জন সদস্যই খেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচের ওপরই নির্ভর করে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি মেনেই তারা মাঠে নামবেন বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা কঠিন না হলেও বাংলাদেশ দল মাত্র ২২১ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ২৬ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শরীফুল সরাসরি কোনো দায়ভার ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপাননি। তার মতে, হারলে পুরো দলেরই খারাপ লাগে। ক্রিকেটারদের মধ্যকার পারস্পরিক সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন:
“একটা ম্যাচে হয়তো আমরা ভুল করেছি। তারা অবশ্যই ভালো দল, আমরাও ভালো দল। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আছে এবং পরবর্তী ম্যাচে আমরা ভালো করতে পারব বলে আশাবাদী।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বোলাররা যদি আরও কম রান দিতে পারতেন, তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ হতো। ক্রিকেট খেলায় এক বিভাগ ব্যর্থ হলে অন্য বিভাগকে তা পুষিয়ে দিতে হয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দলগতভাবে সাফল্যের জন্য তারা মুখিয়ে আছেন।
তিন ম্যাচের এই সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ সমতায় আনতে হলে আগামীকালকের ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। আফগানিস্তানের বর্তমান ফর্ম এবং কন্ডিশন বিবেচনায় সফরকারীরা বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে বাংলাদেশ চাইবে ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয় বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে সিরিজে ফিরতে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের তথ্যচিত্র:
তারিখ: আগামীকাল।
সময়: সকাল ১১:০০ মিনিট।
ভেন্যু: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
উদ্দেশ্য: সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সমতা ফেরানো।
বাংলাদেশ দলের জন্য এই ম্যাচটি কেবল জয়ের লড়াই নয়, বরং ভুলত্রুটি শুধরে দলগত সংহতি প্রমাণেরও এক বড় সুযোগ। একাদশে শরীফুল ইসলাম বা মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে কে খেলবেন, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকবে আফগান ব্যাটসম্যানদের দ্রুত সাজঘরে ফেরানো এবং বড় স্কোর গড়া।