বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। রপ্তানি, আমদানি, প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক পরিষেবার লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, প্রবাসী কর্মী এবং আমদানি–রপ্তানি সংশ্লিষ্ট খাতগুলো প্রতিদিনই এই হারের পরিবর্তনের ওপর নজর রাখে।
রোববার (২৯ মার্চ) দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার নতুন বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশি টাকা অনুযায়ী)
| বৈদেশিক মুদ্রা |
বাংলাদেশি টাকায় মূল্য |
| মার্কিন ডলার |
১২২ টাকা ৭৫ পয়সা |
| ইউরো |
১৪১ টাকা ৩০ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড |
১৬২ টাকা ৮০ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার |
৮৪ টাকা ৪০ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন |
০ টাকা ৭৬ পয়সা |
| কানাডীয় ডলার |
৮৮ টাকা ৩৬ পয়সা |
| সুইডিশ ক্রোনা |
১২ টাকা ৯৭ পয়সা |
| সিঙ্গাপুর ডলার |
৯৫ টাকা ২৬ পয়সা |
| চীনা ইউয়ান রেনমিনবি |
১৭ টাকা ৭৪ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি |
১ টাকা ২৯ পয়সা |
| শ্রীলঙ্কান রুপি |
২ টাকা ৫৬ পয়সা |
| মালয়েশীয় রিঙ্গিত |
৩০ টাকা ৫৮ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল |
৩২ টাকা ৭১ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল |
৩৩ টাকা ৫৯ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার |
৩৯৭ টাকা ৯২ পয়সা |
| ওমানি রিয়াল |
৩১৮ টাকা ৬৭ পয়সা |
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে মুদ্রার বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে। বিশেষ করে মার্কিন ডলার ও ইউরোর মতো প্রধান মুদ্রাগুলোর পরিবর্তন বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যেখানে সৌদি রিয়াল, কাতারি রিয়াল ও ওমানি রিয়ালের বিনিময় হারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মুদ্রাগুলোর শক্তিশালী মান বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ করে কোনো মুদ্রার মান বেড়ে বা কমে গেলে আমদানি খরচ, পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক বাজারে প্রভাব পড়ে।
তবে তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে বৈদেশিক মুদ্রার হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। বৈশ্বিক বাজার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই পরিবর্তন ঘটে থাকে।