আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রতিটি বিশ্বকাপেই খেলার জন্য প্রস্তুত করা বিশেষ ফুটবল আলাদা করে মনোযোগ কাড়ে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এডিডাস তৈরি করেছে ‘ট্রায়ন্ডা’। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে গতকাল এই বলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
এই বলের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান-এর মতো কিংবদন্তিরা। এরপরই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ট্রায়ন্ডাকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিনটি দেশ সম্মিলিতভাবে আয়োজক হওয়ায় বলটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। এখানে ‘ট্রি’ মানে তিনজন আয়োজক রাষ্ট্র, আর ‘ওন্ডা’ শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষা থেকে, যার অর্থ তরঙ্গ বা ছন্দ। বলটির নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে নীল, লাল ও সবুজ বর্ণ—যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর প্রতীক হিসেবে গণ্য।
ট্রায়ন্ডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রথম বিশ্বকাপের ফুটবল যা আয়োজক দেশগুলোর জলবায়ু বিবেচনা করে বানানো হয়েছে। জুন-জুলাই মাসে ১৬টি শহরের আবহাওয়া ভিন্ন হয়। কোথাও আর্দ্রতা বেশি থাকে, আবার কোথাও উচ্চতা বা তাপমাত্রা আলাদা। এডিডাস বলটিকে এমনভাবে নির্মাণ করেছে যাতে সব পরিবেশে এর অনুভব একই রকম হয়। এজন্য পৃথক বুনন ও বাড়তি গ্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এডিডাসের বৈশ্বিক ক্যাটাগরি ডিরেক্টর সোলেন স্টর্ম্যান মন্তব্য করেন, ‘আমরা জানতাম যে ১৬টি ভেন্যু রয়েছে। প্রতিটি স্থানের আবহাওয়া ভিন্ন। তাই আমরা নিশ্চিত হতে চেয়েছি এই বলটি সব জায়গায় সমানভাবে কার্যকর হবে।’
শুধুমাত্র জলবায়ু নয়, বলটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত একটি চিপও। পূর্বের ‘আল রিহলা’-র মতোই এতে চিপ থাকবে, তবে এবার সেটি বলের একপাশে স্থাপন করা হয়েছে। এই সেন্সর রেফারিদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। একই সাথে খেলোয়াড়দের স্পর্শ, ড্রিবল, পাসের গতি এবং অন্যান্য তথ্যও সংগ্রহ করা যাবে। এডিডাস প্রত্যাশা করছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে এগুলো বড় ভূমিকা রাখবে।
এডিডাস জানিয়েছে, এটি তাদের তৈরি সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত বিশ্বকাপের ফুটবল। কোম্পানিটি নিজস্ব পরীক্ষাগার ও লাফবোরো ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মিলে উইন্ড টানেল পরীক্ষা চালিয়েছে। এরপর মেজর লিগ সকার এবং লিগা এমএক্স-এর খেলোয়াড়রাও বলটি ব্যবহার করেছেন।
স্টর্ম্যান বলেন, ‘আমরা কেবল ল্যাবেই নয়, মাঠের খেলোয়াড়দের দিয়েও পরীক্ষা করিয়েছি। পেশাদার থেকে শুরু করে অপেশাদার—সবার মতামত নেওয়া হয়েছে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন