খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জন্ম যেমন হয়েছিল একই দিনে, শেষ বিদায়টাও নিতে চাইলেন পাশাপাশি—এই ইচ্ছাই রিয়ে গেলেন জার্মানির বিখ্যাত যমজ শিল্পী অ্যালিস কেসলার ও অ্যালেন কেসলার। ইউরোপজুড়ে ‘কেসলার টুইনস’ নামে পরিচিত এই নৃত্যশিল্পী–সংগীতশিল্পী জুটি যৌথভাবে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন। মৃত্যুর সময় তাদের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিউনিখের গ্রুনওয়াল্ডে নিজেদের বাসভবনে পরিকল্পিতভাবে জীবনাবসান ঘটান তারা। মিউনিখ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, যমজ দু’জন দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নেওয়া।
জানা গেছে, জার্মানিতে এমন একটি সংগঠন রয়েছে যারা আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়াকে সহজ করে সেবা দিয়ে থাকে। সেই সংগঠন—“জার্মান সোসাইটি ফর হিউম্যান ডাইয়িং”—এর সদস্য ছিলেন অ্যালিস ও অ্যালেন কেসলার। প্রক্রিয়া শুরুর আগে তারা একজন আইনজীবী ও একজন চিকিৎসকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করেন, যা জার্মান আইনের অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক।
এর আগেও তারা একাধিক সাক্ষাৎকারে—বিশেষ করে গত বছর ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে—স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর মুহূর্তটিও তাঁরা ভাগাভাগি করে নিতে চান। জীবনের প্রতিটি ধাপ একসাথেই কাটিয়েছেন তাঁরা, তাই শেষটাও একই চিঠির মতোই ছিল দুই বোনের।
১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া অ্যালিস ও অ্যালেন ছোট থেকেই নৃত্যকলায় প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৫০-এর দশকে তাদের পরিবার পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিম জার্মানিতে পাড়ি জমানোর পর শুরু হয় তাঁদের প্রকৃত বিনোদনজীবন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও সংগীতে তাদের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউরোপে।
তাদের মৃত্যুর খবরে ইউরোপের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বহুবছরের সঙ্গময় জীবনের পর যমজ এই দুই কিংবদন্তির যৌথ বিদায়ও তাই হয়ে থাকল ইতিহাসের অংশ।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | অ্যালিস কেসলার ও অ্যালেন কেসলার |
| জাতীয়তা | জার্মান |
| পরিচিতি | সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, ইউরোপের বিখ্যাত ‘কেসলার টুইনস’ |
| জন্ম | ১৯৩৬ |
| মৃত্যু | যৌথ স্বেচ্ছামৃত্যু |
| মৃত্যুর স্থান | গ্রুনওয়াল্ড, মিউনিখ |
| বয়স | ৮৯ বছর |
| সংশ্লিষ্ট সংগঠন | German Society for Human Dying |
| ক্যারিয়ার শুরু | ১৯৫০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানিতে |
| উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎকার | ইতালীয় গণমাধ্যমে একই দিনে মৃত্যুর ইচ্ছা প্রকাশ |
আপনি যদি কখনো মনে করেন জীবন অসহনীয় হয়ে উঠছে, মনে রাখুন—আপনি একা নন। সাহায্য চাওয়া কখনোই দুর্বলতা নয়; বরং এটি আপনার শক্তির পরিচয়। নিজের অনুভূতি বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবার বা মানসিক স্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ভাগ করুন। সময়, সহায়তা ও কথা বলার মধ্য দিয়ে একসময় সব আগের চেয়ে ভালো হতে পারে।
আপনি যদি মানসিক চাপে থাকেন বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভোগেন, অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না—জীবন মূল্যবান, এবং আপনার জন্য এখনও অনেক সুন্দর মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।