খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) হাই-স্কোরিং ম্যাচে রিশাদ হোসেনের রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শরিফুল ইসলামের পেশোয়ার জালামি একটি দারুণ জয় অর্জন করেছে। ম্যাচটি শুরু হয় ব্যাটিংয়ে নেমে রাওয়ালপিন্ডির দৃঢ় ৪ উইকেটে ২১৪ রান করার মাধ্যমে। তবে পেশোয়ার জালামি ৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে নির্ধারিত সময়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের শুরুতে লাহোরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রাওয়ালপিন্ডির অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ওপেনিং জুটি মাত্র ৩২ বলেই ১২৫ রান তুলেছে। রিজওয়ান ৩২ বলে ৪১ রান করে আউট হন, আর অন্য ওপেনার ইয়াসির খান ফিফটি পূর্ণ করেন। ইয়াসিরের ইনিংস ৮৩ রান ছিল, যা ৪৬ বল খেলে সাতটি চার ও ছয়টি ছয়ে সমৃদ্ধ।
এরপর কামরান গুলাম ২০ বলে ৩৭ রান, স্যাম বিলিংস ৮ বলে ১৮ রান এবং আব্দুল্লাহ ফজল ২ বলে ৫ রান যোগ করেন। রাওয়ালপিন্ডির ইনিংস মোট ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ রান নিয়ে শেষ হয়। বল হাতে শরিফুল ইসলাম ৪ ওভার বল করে মাত্র ৩১ রান খরচ করেন। যদিও কোনো উইকেট পাননি, তবু হাই-স্কোরিং ম্যাচে তার বল ছিল মিতব্যয়ী।
রান তাড়া করতে নেমে পেশোয়ার জালামি দ্রুত খেলার ছন্দ ধরেছিল। উদ্বোধনী জুটিতে বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিস ৭৮ রান তুলেন। মোহাম্মদ হারিস ২৮ বলে ৪৭ রান করে আউট হন, আর বাবর আজম ২৮ বলে ৩৯ রান করে ফিরেন। এরপর কুশল মেন্ডিস ১৭ বলে ৩১ রান এবং অ্যারন হার্ডি ১০ বলে ৮ রান যোগ করেন।
শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৭৪ রান, যা তারা মাত্র ৪.১ ওভারেই পূর্ণ করে। আব্দুল সামাদ ১১ বল খেলে ৩৩ রান করে আউট হন। অপরদিকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ব্রেসওয়েল ও আমির জামাল, যথাক্রমে ১৭ বলে ৩৫ রান ও ৫ বলে ১৭ রান অপরাজিত।
বল হাতে রিশাদ হোসেন ৪ ওভার বল করে ৩৫ রান খরচ করেন এবং একটি উইকেট নেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন আমাদ বাট, যার পারফরম্যান্স রাওয়ালপিন্ডির ইনিংসকে সীমিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিচে উভয় দলের ইনিংস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ | পেশোয়ার জালামি |
|---|---|---|
| মোট রান | ২১৪/৪ (২০ ওভার) | ২১৫/৫ (১৯.১ ওভার) |
| উদ্বোধনী জুটি | ১২৫ রান | ৭৮ রান |
| সর্বোচ্চ রান | ইয়াসির খান ৮৩ (৪৬ বল) | মোহাম্মদ হারিস ৪৭ (২৮ বল) |
| গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস | কামরান গুলাম ৩৭, স্যাম বিলিংস ১৮ | কুশল মেন্ডিস ৩১, আব্দুল সামাদ ৩৩ |
| সর্বোচ্চ উইকেট | আমাদ বাট ২ | – |
| শীর্ষ বোলার | শরিফুল ইসলাম ৪ ওভার, ৩১ রান | – |
| জয় নিশ্চিত | – | ৫ উইকেটে, ৫ বল হাতে |
ম্যাচটি ছিল ৪৩২ রানের মহাযুদ্ধের সমতুল্য, যেখানে পেশোয়ার জালামির সফল পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের দক্ষতায় জয় নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের বোলিং এবং ব্রেসওয়েল-সামাদ-জামালের শেষ পর্যায়ের হিটিং ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। এই জয়ের ফলে পেশোয়ার জালামি গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে উঠে এসেছে।