খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ দিনে দিনে দৃশ্যমানভাবে উন্নত হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)–এর বার্ষিক কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। টানা সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ফ্রান্সে বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছে।
রুই তিয়েরে কুরির তারকা মিলনায়তনের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে আয়োজিত বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কমিউনিটি নেতা, কূটনীতিক ও পেশাজীবীরা। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ৩০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট প্রদানের মুহূর্ত, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গর্ব ও আনন্দের সঞ্চার করে।
ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থায় সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে—
ফ্রেঞ্চ কারিকুলামে উত্তীর্ণ ১০ জন
বিটিএসে সফল ১ জন
অনার্স সম্পন্ন ২ জন
মাস্টার্স অর্জনকারী ১৫ জন
এবং একজন নবীন চিকিৎসক
—এরা ফ্রান্সে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনেসকোয় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা, যিনি সম্প্রতি ইউনেসকোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর প্রতি বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম মর্যাদা যোগ করে।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন—
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খায়রুজ্জামান মোল্লা
দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ বিন কাশেম
মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান
এবং প্রবাসী সমাজের নানা পরিচিত মুখ
তারা সবাই একমত হন যে বাঙালি তরুণদের মেধা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতাই প্রবাসী কমিউনিটির ভবিষ্যৎ।
অনুষ্ঠান শুরু হয় আরশী বড়ুয়ার ভায়োলিন পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে। এতে উপস্থিতিরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর মোটিভেশনাল বক্তৃতা এবং সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পুরো হলজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
এ ছাড়া মানবিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহযোগী সংগঠন সিএফএফ-জি–এর ফরাসি ডেলিগেশনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
বিসিএফ কর্তৃপক্ষ জানান—তারা শুধু সংবর্ধনা নয়, বরং প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও তরুণদের পেশাগত গাইডলাইন তৈরিতে আরও কাজ করতে চায়। বক্তারা বলেন—এ ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে আরও বড় অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা এক বাক্যে মন্তব্য করেন—“এই সংবর্ধনা শুধু পুরস্কার নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রার প্রতীক।”