খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে পৌষ ১৪৩২ | ১৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় যেন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে নতুন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম। আলোচনার বর্তমান অবস্থান দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত সান্তোসেই থাকতে পারেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
৩৩ বছর বয়সী নেইমার চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের আল হিলাল ছেড়ে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন করেন সান্তোসে। দীর্ঘ সময় গুরুতর চোটে ভুগে মাঠের বাইরে থাকার পর তার এই ফেরা শুধু স্মৃতির টানে নয়, বরং ক্যারিয়ারের কৌশলগত এক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরিচিত পরিবেশে থেকে নিয়মিত খেলার সুযোগ, চাপ কম থাকা এবং ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরে পাওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
যদিও সান্তোসে ফিরে মাঠে ধারাবাহিকভাবে খেলতে পেরেছেন নেইমার, তবে চলতি মাসের শেষেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এরই মধ্যে মার্কিন ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, নেইমার ও সান্তোস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা এখন ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। খুব শিগগিরই ছয় মাসের একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে সই হতে পারে, যা মূলত বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনার অংশ।
এই সময়ের মধ্যে নেইমারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল বেশ কয়েকটি ক্লাব। বিশেষ করে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার গুঞ্জন বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সব ধরনের প্রস্তাব উপেক্ষা করে সান্তোসেই থাকতে আগ্রহী নেইমার। কারণ, গত মৌসুমে তার অবদানেই ক্লাবটি শীর্ষ লিগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
| সূচক | পরিসংখ্যান |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৩০ |
| গোল | ১২ |
| অ্যাসিস্ট | ৬ |
| বয়স | ৩৩ বছর |
| সম্ভাব্য নতুন চুক্তি | ৬ মাস |
তবে আশঙ্কার জায়গা তার হাঁটুর চোট। মৌসুমের শেষ দিকে ব্যথা নিয়েই খেলতে হয়েছে তাকে। ক্লাব চিকিৎসকদের মতে, শিগগিরই হাঁটুর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকতে পারেন তিনি। আপাতত মৌসুম শেষ হওয়ায় ছুটিতে রয়েছেন নেইমার, আর নতুন মৌসুম শুরু হবে জানুয়ারির শেষ দিকে।
সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অবশ্য জাতীয় দলে ফেরা। প্রায় দুই বছর ধরে ব্রাজিল দলে নেই তিনি, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছেন নেইমার। সান্তোসে ফেরার পর তিনি বলেছিলেন, “জাতীয় দলে ফেরা আমার বড় লক্ষ্য। বিশ্বকাপ জেতার একটি মিশন এখনো অসম্পূর্ণ—সম্ভবত এটিই আমার শেষ সুযোগ।”
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও নেইমারকে পুরোপুরি বাদ দিচ্ছেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফর্ম ও ফিটনেসই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড। তার ভাষায়, “নেইমার যদি যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে এবং অন্যদের চেয়ে ভালো খেলতে পারে, তাহলেই সে বিশ্বকাপে খেলবে। এখানে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।”
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। এই কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে সেলেসাও। সেই স্বপ্নের অভিযানে নেইমার থাকবেন কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসে—তার পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং মাঠের লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই।