খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচকে ঘিরে যত প্রশ্ন, তার বেশির ভাগই ঘুরেফিরে এসে থামে এক জায়গায়—জামাল ভূঁইয়া কি প্রথম একাদশে থাকবেন? সংবাদ সম্মেলনে, প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে, এমনকি অনানুষ্ঠানিক আলাপেও একই প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শুরু শিলংয়ে প্রথম লেগ ম্যাচকে ঘিরে। ম্যাচের আগের দিন জামালকে নিয়ে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলেও পরদিন তাঁকে একাদশে রাখেননি। আর্মব্যান্ড দেওয়া হয় তপু বর্মণকে।
এরপর সিঙ্গাপুর, হংকং (হোম ও অ্যাওয়ে)—কোথাও প্রথম একাদশে ছিলেন না জামাল। দু’একবার বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও তাঁর অবস্থান দলে স্পষ্টভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে আজকের ম্যাচেও তিনি একাদশে থাকবেন কি না—তা নিয়েও সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
জামাল নিজে এ বিষয়ে সংযত অবস্থান নিয়েছেন। সরাসরি বলেছেন—“আমি খেলতে চাই, কিন্তু সিদ্ধান্ত কোচের।” তবে খেলুন বা না খেলুন, দেশের মাটিতে বাংলাদেশ জয়ের সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন তিনি। তাঁর যুক্তি—হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের যোগে বর্তমান স্কোয়াড ভারতের তুলনায় শক্তিশালী।
৩৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় কখনও মাঝমাঠে, কখনও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলিয়েছেন কাবরেরা। কিন্তু আজকের ম্যাচে তাঁর প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ডিফেন্সে মিতুলের সঙ্গে তারিক কাজী, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন ও জায়ান আহমেদ; মাঝমাঠে হামজা, শমিত, সোহেল রানা ও ফয়সাল; আর সামনে রাকিব—এই সম্ভাব্য কম্বিনেশনই বেশি আলোচনায়।
বিকল্প হিসেবে মাঠে দেখা যেতে পারে জামালকে। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর ৯২ ম্যাচ খেলা এই মাঝমাঠের লড়াকু ফুটবলার ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ছয়বার—তবে কোনো ম্যাচেই জেতেননি বাংলাদেশ। এবার সেই ব্যর্থ ইতিহাস ভাঙতে মুখিয়ে আছেন তিনি। তাঁর ভাষায়—“এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড। তাই আজ আমাদের বড় সুযোগ।”
২০২৫ সালে সাত ম্যাচে কেবল ভুটানের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় বছরটি ছিল হতাশাজনক। তাই আজ ভারতের বিপক্ষে জয় নিয়ে বছর শেষ করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। রক্ষণে দুর্বলতা চোখে পড়লেও জামালের বিশ্বাস—ভারত আক্রমণাত্মক খেললে বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণে বেশি জায়গা পাবে। বিশেষ করে রাকিব হোসেনকে “দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম ফুটবলার” বলে উল্লেখ করে তিনি জানান—ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারতীয় রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে।