২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল দেখিয়েছে খেলার মানে উন্নতি, তবে ফলাফলে তা প্রতিফলিত হয়নি। সিঙ্গাপুরের মাঠে শেষ ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ হারলেও খেলায় আধিপত্য, আক্রমণধারা এবং বল দখলে পুরোপুরি এগিয়ে ছিল। গোলের সুযোগ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো যায়নি, যা সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দল ছয়টি বাছাই ম্যাচে ৫ পয়েন্ট অর্জন করেছে। ভারত ও হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচে দাপট দেখানো দলের বড় অর্জন। তবে গুরুত্বপূর্ণ জেতার সুযোগ হাতছাড়া করা এবং শেষ মুহূর্তের গোল দলকে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে দেয়নি।
বাছাইপর্বের বিশদ ফলাফল
| প্রতিদ্বন্দ্বী দল |
ম্যাচ |
জয় |
ড্র |
হার |
গোল অনুপাত |
পয়েন্ট |
| বাংলাদেশ |
৬ |
১ |
২ |
৩ |
৫-৭ |
৫ |
| ভারত |
৬ |
২ |
২ |
২ |
৬-৫ |
৮ |
| হংকং |
৬ |
২ |
১ |
৩ |
৪-৫ |
৭ |
| সিঙ্গাপুর |
৬ |
৩ |
১ |
২ |
৫-৩ |
১০ |
জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, “দল খেলার মানে উন্নতি দেখিয়েছে, তবে লক্ষ্য পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলাফলই যদি শেষ কথা হয়, তাহলে কোচ যথাযথ ফল দিতে পারেননি। তবে দলের খেলার ধারাবাহিকতা প্রশংসনীয়।”
মোহামেডান ক্লাবের কোচ আলফাজ আহমেদ আরও বিশ্লেষণ করেছেন, “প্রতিটি ম্যাচে ভিন্ন খেলোয়াড় খেলানো এবং বিকল্প খেলোয়াড় তৈরি করতে না পারা কোচের বড় ব্যর্থতা। কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব চূড়ান্ত পর্বে না যাওয়ার মূল কারণ।”
সাবেক ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ এবং জাহিদ হাসান এমিলি মনে করেন, দলের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বড় দলগুলো এখন বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ফলাফলে তা দেখা যায়নি। এমিলি বলেন, “ফলাফলে আমাদের সামর্থ্যের প্রতিফলন হয়নি। অন্তত দুইয়ে থাকা উচিত ছিল। কোচ পরিবর্তন এখন জরুরি।”
মোটের ওপর, বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাছাইপর্বের খেলা আশা জাগিয়েছে। ভালো খেলার প্রতিফলন ফলাফলে না দেখা গেলেও ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিক স্পষ্ট। তবে কোচ পরিবর্তন, ধারাবাহিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং স্ট্রাইকারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে, যা সমর্থক ও বিশ্লেষকদের আশা।