খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক ১২ দিনের ক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধে ইরান পরিকল্পিত কৌশল প্রয়োগ করে ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে এবং সফলভাবে তা ভেদ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তার আক্রমণ কৌশলে নতুনত্ব এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে- উপযুক্ত সময় বেছে নিয়ে দফায় দফায় হামলা, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, দূরপাল্লার ফাতেহ-১ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্ব, আক্রমণের ধরন ও সময়ে বৈচিত্র্য আনা
এই কৌশলের ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শুরুতে আংশিক কার্যকর থাকলেও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইসরায়েলের ব্যর্থতা ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। ২২ জুন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুদিন আগে, ইরান ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১০টি সরাসরি ইসরায়েলে আঘাত হানে।
যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল দাবি করে, তারা ৯০-৯৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সফলতা হার কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাস্তবে আঘাতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা আরও প্রকট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘর্ষ বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাও পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য নয়। র্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেন বলেন, “কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নিখুঁত নয়, প্রতিটিতেই দুর্বলতা থাকে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘর্ষকে সামনে রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করছে। এই যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তা চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে বিশেষজ্ঞরা।
খবরওয়ালা/টিএস