খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের সমাজে লিঙ্গবৈষম্য বহুদিনের সমস্যাই বটে। তবে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিষয়টিকে আবারও তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন—ভারতের বহু শিক্ষিত পরিবার, এমনকি চলচ্চিত্র–সংক্রান্ত পরিবারগুলোও গোপনে ছেলেশিশুর প্রতি বেশি দুর্বলতা দেখায়। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনার ঝড়।
কঙ্গনার ভাষ্য অনুযায়ী, এশিয়ার প্রায় প্রতিটি সমাজেই সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে গোপন প্রত্যাশা থাকে। তিনি বলেন, “যদি কোনো পরিবারে প্রথম সন্তান মেয়ে হয় এবং দ্বিতীয়বারও মেয়ে হয়, তখন বোঝা যায়—বহু বাবা–মায়ের অন্দরেই ছেলেসন্তানের আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। বাইরে সবাই প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে থাকলেও ভেতরে ভেতরে সমাজের রীতিগুলোই অনেক সময় প্রভাব ফেলে।”
অভিনেত্রীর মতে, এই মানসিকতা শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে নয়—বলিউডের বহু পরিচিত পরিবারেও বিদ্যমান। তিনি সরাসরি দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রির অনেক অভিনেতা–অভিনেত্রীও ছেলেসন্তানের প্রতি অগ্রাধিকারকে প্রকাশ না করলেও মেনে নেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মন্তব্য প্রশংসা ও সমালোচনা—দুটি পক্ষকেই জাগিয়েছে। বহু মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখছেন, কঙ্গনা যা বলেছেন তা বাস্তবতারই প্রতিফলন। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন—“প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার সঙ্গে আর্থ–সামাজিক অবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়েও ছেলের জন্য মানত করে। অথচ এসব পরিবারই নিজেদের আধুনিক বলে দাবি করে।”
অন্যদিকে, কঙ্গনার সমালোচকদের দাবি, অভিনেত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করেন এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধকে একরকম বাঁধাধরা দৃষ্টিতে বিচার করেন। তবে সমর্থকরা বলছেন—কঙ্গনা এমন এক বাস্তবতার কথা তুলেছেন যা অধিকাংশই বলে না, কিন্তু সমাজে তা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
সব মিলিয়ে, কঙ্গনার মন্তব্য শুধু বিনোদন দুনিয়ায় নয়, বরং বৃহত্তর সমাজে লিঙ্গবৈষম্যের পুরোনো ক্ষতকেই আবার সামনে টেনে এনেছে।