খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য মানবিক করিডোর দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, করিডোর দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে হবে নির্বাচিত সংসদ থেকে। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্পর্শকাতর।
বৃহস্পতিবার (১ মে) ঢাকার নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
তারেক রহমান বলেন, বিদেশি স্বার্থ নয়, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, পাকিস্তান কিংবা মিয়ানমার নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।
ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এ বছর রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার চাল ও তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চাল–তেলের দাম বেড়েছে কিন্তু মানুষের আয় বাড়েনি। তাহলে জনগণ এখন তাদের এমন ভোগান্তির কথা কার কাছে, কোথায় কীভাবে বলবে?
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশে এখন প্রতিদিন প্রতিনিয়ত সংস্কার নিয়ে শোরগোল চলছে। গণমাধ্যমের খবর কিংবা টেলিভিশনের টক শো—সবখানেই সংস্কার নিয়ে আলোচনা। কিন্তু সংস্কারের এত কর্মযজ্ঞের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর কোথায়। কৃষক–শ্রমিকেরা গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। তাহলে তাঁরা কোথায় কার কাছে কীভাবে তাঁদের সমস্যা–সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরবেন। কে তাঁদের প্রতিনিধি?
তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ–দুর্দশা, সমস্যা–সম্ভাবনার কথা যাতে রাষ্ট্র এবং সরকারের কানে পৌঁছায়, সে জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। কারণ, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, নির্বাচিত সরকার অবশ্যই জনগণের কথা শুনতে বাধ্য। তিনি বলেন, সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে বিএনপি সারা দেশে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপ করছে। পাশাপাশি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য যেমন সংস্কার প্রয়োজন, তেমনি জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নির্বাচন।
অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধ উসকে দিতে চায় বলেও সমাবেশে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে এ ধরনের বিশ্বাস জন্ম দিতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুনির্দিষ্টভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও পথনকশা সুস্পষ্ট থাকলে জনমনে সন্দেহ–সংশয় কেটে যাবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সঞ্চালক ছিলেন শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। রাজধানীর আশপাশের জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন।
খবরওয়ালা/এমবি