খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের কুদসাই গ্রামে এক নারী ও তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে আহত ওই নারীর স্বামী কোলহান সিংকু (৩২) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজতে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে।
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুদসাই গ্রামটি আদিবাসী অধ্যুষিত। এখানে প্রায় ৫০টি মাটির তৈরি ঘর রয়েছে। সম্প্রতি গ্রামে কয়েকটি গবাদিপশুর অপ্রত্যাশিত মৃত্যু এবং স্থানীয় বাসিন্দা পুস্টুন বিরুয়ার অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পুস্টুনের স্ত্রী জানো বিরুয়া জানান, তার স্বামীর বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছিল। গ্রামের এক হাতুড়ে চিকিৎসক জানিয়েছেন, পুস্টুনের শরীরে কোনো দৃশ্যমান রোগ নেই। গ্রামের ঘনত্বপূর্ণ দারিদ্র্য ও হাসপাতালের দূরত্বের কারণে পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে পারেনি। এর মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, জ্যোতি সিংকু নামের এক নারী ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছেন এবং পুস্টুনের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্টুনের মৃত্যু হয়। একই রাতে প্রায় ১২ জনের একটি দল কোলহান সিংকুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন। তারা কোলহানের স্ত্রী ও শিশুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহত কোলহান হাসপাতালের শয্যায় বসে বলেন, “আমি অনুরোধ করেছি, বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত বা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হোক। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।”
জেলা পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করেছে। ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ গ্রামে কুসংস্কার এবং ডাইনিবিদ্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
| নাম | বয়স | লিঙ্গ | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| ব্যক্তি ১ | ৩৫ | পুরুষ | হেফাজতে |
| ব্যক্তি ২ | ২৮ | মহিলা | হেফাজতে |
| ব্যক্তি ৩ | ৩০ | পুরুষ | হেফাজতে |
| ব্যক্তি ৪ | ২৫ | মহিলা | হেফাজতে |
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে জাদুবিদ্যা বা ডাইনিবিদ্যার অভিযোগে ২,৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা করছে। গ্রামে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে, যাতে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
এই ঘটনায় সমাজে ডাইনি অপবাদ এবং কুসংস্কারের মারাত্মক প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।