খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলা গান ও চলচ্চিত্রের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান ব্যক্তি তাঁর সৃষ্ট অমর গান ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে আজও বেঁচে আছেন।
তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনিকার এবং সংলাপ রচয়িতা—একজন পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানে গান লেখার মাধ্যমে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু। এরপর বাংলাদেশের টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নিয়মিত গান ও নাটক রচনা করেন। ১৯৬৭ সালে ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান লেখার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং দ্রুত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গীতিকবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম ছিল তাঁর সৃষ্টির মূল প্রেরণা। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তাঁর গানে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি প্রায় ২০,০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন, যার অনেকগুলো আজও কালজয়ী। বিবিসি বাংলার সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তাঁর লেখা তিনটি গান স্থান পায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি বহন করে।
চলচ্চিত্রেও গাজী মাজহারুল আনোয়ার রেখেছেন অসামান্য অবদান। ১৯৮২ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নান্টু ঘটক’ মুক্তি পায়। কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গানে তাঁর বহুমাত্রিক দক্ষতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
| বছর | উল্লেখযোগ্য ঘটনা | পুরস্কার/সন্মাননা |
|---|---|---|
| ১৯৬৪ | রেডিও পাকিস্তানে গান রচনা | পেশাগত যাত্রা শুরু |
| ১৯৬৭ | চলচ্চিত্রে গান লেখা শুরু | ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ |
| ১৯৮২ | চলচ্চিত্র পরিচালনা | ‘নান্টু ঘটক’ মুক্তি |
| ২০০২ | জাতীয় স্বীকৃতি | একুশে পদক |
| ২০২১ | স্বাধীনতা পুরস্কার | সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা |
| ২০২২ | চিরবিদায় | – |
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি গীতিকবি আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নেন। কিন্তু তাঁর লেখা গানগুলো আজও স্বাধীনতার চেতনা জাগায়, প্রেমের ভাষা শেখায়, দেশকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে। শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করা হয় গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে।
তাঁর সুর-শব্দের মায়াজালে বাংলা সংগীত চিরকাল সমৃদ্ধ থাকবে। তাঁর সৃষ্টির ধারা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলবে, এবং বাংলা সংস্কৃতির আকাশে তাঁর নক্ষত্র সর্বদা উজ্জ্বল থাকবে।