খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লেখক ও গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর গ্রেপ্তার দুর্নীতির চেয়েও অনেকটা ‘মুখ বন্ধ’ করার উদ্দেশ্যেই হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আরও অনেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বক্তব্যে ড. মাহমুদ বলেন, অধ্যাপক কলিমউল্লাহর মতোই, এমনকি তার চেয়েও বড় দুর্নীতির অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে। কয়েক ডজন উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তের প্রয়োজন থাকলেও আমরা কখনো সেই উদ্যোগ দেখিনি।
তিনি বলেন, অথচ অধ্যাপক কলিমউল্লাহকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার দেড় মাসের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে তাকে আটক করা হলো। এতে প্রশ্ন ওঠে, এটি কি সরকারের সমালোচককে চুপ করানোর কৌশল?
ড. মাহমুদ আরও জানান, কলিমউল্লাহ তার উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে ১,৩৫২ দিনের মধ্যে ১,১১৫ দিন ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এতোদিন ধরে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে হঠাৎ করে গ্রেপ্তার করা প্রশ্নসাপেক্ষ।
তিনি বলেন, “গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে কলিমউল্লাহ ইউটিউব ও টিভি চ্যানেলে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। যদিও তার বক্তব্যে মাঝে মাঝে ভুল তথ্য কিংবা গুজব থাকলেও, তিনি অধ্যাপক ইউনূস ও সরকার পরিচালনায় বিভিন্ন দুর্নীতির কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন।”
ড. মাহমুদের মতে, কলিমউল্লাহ একসময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এমনকি তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাবও করা হয়েছিল। তবুও তিনি আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি। বরং তার সমালোচনার মূল টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিরাই।
এমন অবস্থায় তার কণ্ঠরোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুদকের মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে, বলেন ড. মাহমুদ।
তিনি বলেন, “দুর্নীতির তদন্ত হোক, বিচার হোক। তবে কেউ যদি সরকারের সমালোচনার দায়ে, ‘গুজব’ দমনের অজুহাতে গ্রেপ্তার হন, তবে তা বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং ফ্যাসিবাদের পথে এক ধাপ অগ্রসর হওয়া।”
খবরওয়ালা/টিএসএন