খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র গোয়ালচামট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টানানো নিয়ে প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে সৃষ্ট সামান্য বাকবিতণ্ডার জেরে জুয়েল আহমেদ (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জুয়েল আহমেদ ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের পুত্র। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলদের সীমানা ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলের বাড়ির প্রবেশপথ আটকে কাপড় শুকানোর দড়ি টানাতে শুরু করে। এসময় তারা অহেতুক উচ্চবাচ্য ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে জুয়েল এবং তার ছোট ভাই প্রবাসী সোহেল আহমেদ প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদের এক পর্যায়ে সরফরাজ, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে দুই ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা জুয়েলকে লক্ষ্য করে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। বড় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সোহেলকেও নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে রক্তাত্ব অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | জুয়েল আহমেদ (৩২) |
| আহত ব্যক্তি | সোহেল আহমেদ (নিহতের ছোট ভাই, প্রবাসী) |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. সরফরাজ (ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী) ও তার পরিবার |
| ঘটনাস্থল | মোল্লা বাড়ি সড়ক, গোয়ালচামট, ফরিদপুর |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার সকাল, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| প্রাথমিক কারণ | বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টানানো নিয়ে বিরোধ |
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আসাদ আরও যোগ করেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা প্রধান দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছি এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এদিকে, গুরুতর আহত সোহেল আহমেদ বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ ওই এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।