খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
জুলাই-অগাস্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন কারাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (১৫ জুন) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. ফারুক।
সাইদুর রহমানে কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ছিলেন।
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, ‘সাইদুর রহমান সুজন সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে আরও দুই বন্দির সঙ্গে ছিলেন। রবিবার সকালে সুজন নাস্তাও করেছেন। এরপর একজনের হাজিরা থাকায় আদালতে যায় এবং আরেকজন ঘুমাচ্ছিলেন। এই সুযোগে সুজন নিজের ব্যবহৃত গামছা দিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।পরে আমরা দ্রুততম সময়েই তাকে উদ্ধার করে কারা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি।’
সুজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত অবসাদগ্রস্ত হয়ে তিনি এমন কাজ করতে পারেন। কিন্তু এটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
সুজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনকে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া এলাকায় জমি দখলসহ আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের শাসনের পতন ও শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সুজনও আত্মগোপনে চলে যান। তবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
খবরওয়ালা/এসআর