খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহার এবং লেনদেন গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সব ধরনের কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছিল ২০ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার, লেনদেনের ধারা এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের চিত্র বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক এবং ১টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) কার্ড সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫৫টি ব্যাংক ডেবিট কার্ড সেবা প্রদান করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশে মোট ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি কার্ড কার্যকর ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে কার্ড সংখ্যা ১১৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া, ২০২০ সালের আগস্টে মোট কার্ড সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২২ লাখ, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫ কোটি ৬৯ লাখ।
| বছর | কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন (কোটি টাকা) | কার্ডের সংখ্যা (লাখ) |
|---|---|---|
| ২০২০ (আগস্ট) | — | ২২২ |
| ২০২১ (জানুয়ারি) | ২০,৬২৫ | ২৪০ |
| ২০২৫ (জুলাই) | — | ৫৬৯ |
| ২০২৫ (ডিসেম্বর) | ৫০,০৪৪ | ৫১৮ |
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যাংকের ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকরা মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা ই-কমার্স এবং খুচরা বাজারে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তার দিক নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে বিদেশি নাগরিকদের লেনদেনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা, মোট বিদেশি লেনদেনের এক-চতুর্থাংশের বেশি। এর পর তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য, ভারত, মোজাম্বিক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও সৌদি আরবের নাগরিকরা।
সম্পূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। সরকারের উদ্যোগ, ব্যাংকিং খাতের সম্প্রসারণ এবং ক্রেতাদের ডিজিটাল লেনদেনে আস্থা বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।