খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিজ বাড়িতে ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও নিহত শিল্পার পরিবার মনে করছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময় শিল্পা গর্ভবতী ছিলেন।
প্রবীণ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তিন বছর আগে শিল্পার বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় শিল্পা ও তার পরিবার জানতেন, প্রবীণ একজন প্রকৌশলী। কিন্তু বিয়ের পরপরই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় ফুচকা বিক্রি শুরু করেন।
শিল্পার পরিবারের অভিযোগ, ছয় মাস আগে ফুচকার ব্যবসার জন্য প্রবীণ তাদের কাছে পাঁচ লাখ রুপি দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না দিতে পারায় শিল্পাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের দাবি, আগে থেকেও প্রায়ই অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো। প্রবীণ ও তার পরিবারের এমন আচরণের কারণে শিল্পার পরিবার প্রবীণ প্রকৌশলী ছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দিহান।
শিল্পার পরিবার জানায়, বিয়ের আগে শিল্পা একটি আইটি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। প্রবীণ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে শিল্পাকে গায়ের রঙের জন্য অপমান করা হতো। শাশুড়ি প্রায় বলতেন, “তুমি কালো, আমাদের ছেলে আরও সুন্দরী বউ পেতে পারত।” পরিবারের দাবি, যদি শিল্পা আত্মহত্যা করে থাকেন, তার পেছনে এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন দায়ী।
শিল্পার চাচা চান্নাবশ্য বলেন, “শিল্পা আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিকেলে আমরা মরদেহ দেখেছি, কিন্তু নিচে কোনো চেয়ার বা সহায়ক কিছু ছিল না। শিল্পা ফ্যান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতো না, তাই এটি হত্যা ছাড়া সম্ভব নয়।”
পরিবার জানায়, তারা মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়ি বিক্রি করে ৪০ লাখ রুপি খরচ করেছিলেন। এছাড়া চিট ফান্ডের ১০ লাখ রুপিও প্রবীণকে দিতে হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, মূলত চাকরির কারণে প্রবীণকে বিশ্বাস করেছিলেন, কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল, তিনি ফুচকা বিক্রি করেন এবং মিথ্যা বলে বিয়ে করেছেন।
এই ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। স্বামী প্রবীণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।”
খবরওয়ালা/শরিফ